×
ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পাঁচ মিউচুয়াল ফান্ডে কারসাজির অভিযোগ, তদন্তে নেমেছে বিএসইসি

২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৭:৫৩:৪৬
পাঁচ মিউচুয়াল ফান্ডে কারসাজির অভিযোগ, তদন্তে নেমেছে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কারসাজির মাধ্যমে প্রভাবিত করা এবং টাকার বিনিময়ে বিনিয়োগ পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগে মো. আশরাফুল ইসলামের কর্মকাণ্ড তদন্ত করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ১৩ অক্টোবর জারি করা এক আদেশে এই বিষয়ে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, আশরাফুলের পাঁচটি মিউচুয়াল ফান্ডে লেনদেন, বিভিন্ন ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা, সমন্বিত লেনদেনের মাধ্যমে ইউনিটের দাম প্রভাবিত করার অভিযোগ এবং এসব কর্মকাণ্ড থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি। তদন্ত শেষে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক সুলতানা পারভীন এবং সহকারী পরিচালক লামিয়া আক্তার ও মো. কামাল হোসেন।

পাঁচ মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন তদন্তের আওতায়

তদন্তের আওতায় থাকা পাঁচটি ফান্ড হলো—এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক লিমিটেড ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

বিএসইসির আদেশে বলা হয়েছে, এসব ফান্ডের ইউনিট কেনাবেচার সময়, লেনদেনের পরিমাণ, অর্থের উৎস এবং আশরাফুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী মালিকানা বা বিও হিসাব খতিয়ে দেখা হবে। এসব হিসাব তিনি নিজে পরিচালনা করতেন কি না, কিংবা অন্য কেউ তাঁর সঙ্গে সমন্বয় করে লেনদেন করতেন কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে।

এ ছাড়া সমন্বিত, পারস্পরিক, চক্রাকার বা পূর্বপরিকল্পিত লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম লেনদেনের চিত্র তৈরি করা কিংবা ইউনিটের দাম অস্বাভাবিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা অনুসন্ধান করবে তদন্ত কমিটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনিয়োগ পরামর্শও যাচাই হবে

তদন্তের অংশ হিসেবে আশরাফুলের ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম পরীক্ষা করা হবে। বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট দামে ইউনিট কেনার পরামর্শ, মূল্যলক্ষ্যমাত্রা কিংবা লেনদেনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে কমিটি।

প্রয়োজনীয় নিবন্ধন বা অনুমোদন ছাড়াই তিনি বিনিয়োগ গবেষণা, বিশ্লেষণ কিংবা পরামর্শ দিয়েছেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে। একই সঙ্গে তাঁর কাছে অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ছিল কি না, কিংবা তিনি বা তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ এ ধরনের তথ্য আদান-প্রদান বা ব্যবহার করেছেন কি না, তা যাচাই করা হবে।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে

তদন্তে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তরায় অবস্থিত দুটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের শাখায় আশরাফুলের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব ছিল কি না, তার মধ্যে অ্যারেনা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ভূমিকা কী ছিল, তা পরীক্ষা করা হবে।

এসব প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুমোদনহীন লেনদেন, মার্জিন সুবিধা কিংবা অন্য কোনোভাবে তাঁকে সহায়তা করেছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখবে কমিটি।

এ ছাড়া আশরাফুল বা তাঁর সহযোগীরা এসব লেনদেন থেকে কোনো মুনাফা কিংবা আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন কি না, তা হিসাব করে দেখতে বলা হয়েছে। তদন্তে সিকিউরিটিজ আইন, বিধিমালা, প্রবিধান বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, সেটিও নির্ধারণ করবে কমিটি।

যে আইনে তদন্ত

বিএসইসি জানিয়েছে, শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের ২১ ধারা এবং ১৯৯৩ সালের বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইনের ১৭এ ধারার আওতায় তদন্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে তদন্তের আদেশে উল্লিখিত অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়নি। আশরাফুল ইসলাম বা অন্য কোনো ব্যক্তি সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছেন কি না, তা তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে