×
ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

শিশুকে নিয়ে অভিযোগের পর মুখোমুখি দুই পক্ষ

২০২৬ অক্টোবর ২৩ ১৭:৪০:৩৫
শিশুকে নিয়ে অভিযোগের পর মুখোমুখি দুই পক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং টাকা ও মুঠোফোন লুটের অভিযোগে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায়। শিশুটির বাবার করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত সোমবার মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিশুটির পরিবারের ভাষ্য, ঘটনার পর থেকে সে মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে কিছু বলেনি শিশুটি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়। এরপর বুধবার দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। শিশুটির বাবার করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন অভিযোগ করেছেন, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীদেরও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুট করা হয়েছে। তার দাবি, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসার অপেক্ষা রয়েছে।

তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা। শুক্রবার দুপুরে তিনি জানান, ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার উদ্দেশে হুমকিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান শিশুটির বাবা।

অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে কর্তৃপক্ষও পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

হুমকির অভিযোগ সম্পর্কে ওসি বলেন, উভয় পক্ষই মৌখিকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ এবং উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি তদন্তের আওতায় রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে