×
ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে দুই মৃত্যুদণ্ড: কনস্যুলেটের গাফিলতি নাকি অজ্ঞতা?

২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৮:১৭:১৮
সৌদিতে দুই মৃত্যুদণ্ড: কনস্যুলেটের গাফিলতি নাকি অজ্ঞতা?

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবে দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পূর্বে বাংলাদেশ দূতাবাসকে অবহিত না করার ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জোট হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি)।

পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত ওই দুই প্রবাসী আইনি সহায়তা, নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়া এবং কনস্যুলার সেবা পাওয়ার পূর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে জোটটি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক এবং এইচআরএফবির আহ্বায়ক তাহমিনা রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের অবহেলা প্রমাণিত হলে তাদের কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। একই সাথে, প্রাণ হারানো ওই দুই বাংলাদেশির পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

জাতীয় একটি দৈনিক পত্রিকার ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এইচআরএফবি উল্লেখ করেছে, গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামের দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠির সূত্রে জানা যায়, আলাদা দুটি অপরাধের দায়ে ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে তারা দুজন সেখানে বন্দি ছিলেন।

তবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো বন্দিদের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে অন্যান্য বন্দির সাজার তথ্য থাকলেও এই দুজনের সাজার কলামটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। এমনকি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টিও বাংলাদেশ মিশনকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে আগে থেকে কিচ্ছু জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।

এসব নথির ওপর ভিত্তি করে প্রশ্ন তুলে এইচআরএফবি জানতে চেয়েছে, ৩০ সেপ্টেম্বর তালিকা হাতে পাওয়ার পর কনস্যুলেট কর্মকর্তা কেন ওই দুই নাগরিকের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামেননি। তালিকায় অন্যান্য বন্দির সাজা উল্লেখ থাকলেও এদের তথ্য ফাঁকা থাকার বিষয়ে কোনো তথ্য সংগ্রহ বা আদালতের রায়ের কপি পেতে সৌদি প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে জোটটি।

এইচআরএফবির স্পষ্ট কথা, সৌদি সরকারের আগাম তথ্য না দেওয়ার অজুহাত দেখিয়ে কনস্যুলেট তাদের নিজস্ব দায়িত্ব এড়াতে পারে না। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী স্বজনেরা সহায়তা চেয়ে যোগাযোগ করেনি বলা হলেও, এটি দূতাবাসের নিজ দায়িত্বে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা হতে পারে না।

বিজ্ঞপ্তিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, বাংলাদেশ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সনদের (আইসিসিপিআর) অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী জীবনের সুরক্ষা এবং অনুচ্ছেদ ১৪ অনুযায়ী আইনি আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রক্ষায় বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ। এর পাশাপাশি, ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৩৬ অনুযায়ী আটক বিদেশি নাগরিককে কনস্যুলার সুবিধা প্রদান বাধ্যতামূলক।

এই আন্তর্জাতিক সনদের আলোকে ওই দুই প্রবাসী নিজেদের পছন্দমতো আইনজীবী নিয়োগ, গোপনে কথা বলা, দোভাষীর সাহায্য নেওয়া এবং আপিল কিংবা রাষ্ট্রপতির ক্ষমার সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি মনে করে মানবাধিকার জোটটি।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের অপরাধের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও বিচারিক রায়ের কপি প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছে তারা। যদিও ইতিমধ্যে কনস্যুলেট থেকে রায়ের অনুলিপি চেয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তবে এইচআরএফবি মনে করে বাংলাদেশ সরকারকে সরাসরি উচ্চ কূটনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপন করে জবাব আদায় করা উচিত।

বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের মৌলিক আইনি অধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কূটনৈতিক মিশনগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য বিদ্যমান কনস্যুলার নজরদারি ও আইনি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার কথা বলেছে সংগঠনটি।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে