মুনাফা বেড়েছে ১৩২%, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ডিভিডেন্ডে কী চমক আসছে?
নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের (এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় প্রায় ১৩২ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ২৩০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বিক্রয় আয় বৃদ্ধি, কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বাড়া, স্থগিত কর আয় বৃদ্ধি এবং নতুন বিপণন এলাকা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিক্রির পরিধি বাড়ানোকে এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে কোম্পানিটি।
প্রথম প্রান্তিক থেকে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত প্রতিটি প্রান্তিকেই আগের বছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে। পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সূচক কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মুনাফা ও নগদ প্রবাহের এই প্রবৃদ্ধির ভিত্তিতে বছর শেষে কত শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। কারণ, পূর্ণ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল, নগদ অর্থের প্রাপ্যতা, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের প্রয়োজন এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপর ডিভিডেন্ড নির্ভর করবে।
কোম্পানিটির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৭১ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২ টাকা ২৬ পয়সা বা প্রায় ১৩২ দশমিক ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে, একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ১ টাকা ৭৩ পয়সা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৭৩ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। এতে শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ বেড়েছে ৪ টাকা বা প্রায় ২৩১ দশমিক ২১ শতাংশ।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ কোম্পানিটির পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা ৪৬ পয়সা এবং পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে ৪৪ টাকা ২৫ পয়সা। আগের অর্থবছরের ৩০ জুন এই দুই সূচক ছিল যথাক্রমে ৫৪ টাকা ৮ পয়সা ও ৪০ টাকা ৮৫ পয়সা। অর্থাৎ নয় মাসে পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা বা প্রায় ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা প্রায় ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।
কোম্পানিটির আর্থিক সূচকগুলোর এই উন্নতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে। তবে আয়, নগদ প্রবাহ ও সম্পদমূল্যের প্রবৃদ্ধিকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ, শেয়ারপ্রতি আয় হিসাবভিত্তিক মুনাফার পরিমাপ, পরিচালন নগদ প্রবাহ ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ আসা-যাওয়ার চিত্র তুলে ধরে এবং নিট সম্পদমূল্য কোম্পানির সম্পদ থেকে দায় বাদ দেওয়ার পর শেয়ারপ্রতি অবশিষ্ট হিসাবভিত্তিক মূল্য নির্দেশ করে।
প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৪১৬.৬৭ শতাংশ
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২৪ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২৪ পয়সা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ১ টাকা বা প্রায় ৪১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় পাঁচ গুণেরও বেশি হয়েছে।
কোম্পানির দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বৃদ্ধি, স্থগিত কর আয় বৃদ্ধি এবং বিক্রয় আয় বাড়ার কারণে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে। পাশাপাশি ব্যবসা সম্প্রসারণের কৌশলের অংশ হিসেবে নতুন নতুন এলাকায় বিপণন কার্যক্রম চালু করায় বিক্রির পরিধি বেড়েছে। নতুন বিপণন এলাকা প্রতিষ্ঠার ফলে আগের তুলনায় অধিকসংখ্যক বাজারে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা কোম্পানির আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে কোম্পানির ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে স্থগিত কর আয় বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বাড়লে শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব পড়ে। তবে মুনাফা বৃদ্ধির কত অংশ মূল ব্যবসার বিক্রয় ও পরিচালন কার্যক্রম থেকে এসেছে এবং কত অংশ স্থগিত কর আয়ের কারণে হয়েছে, তা নির্ধারণ করতে বিস্তারিত আর্থিক হিসাব প্রয়োজন। তাই প্রথম প্রান্তিকের শেয়ারপ্রতি আয় ৪১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বাড়লেও এই হারকে পুরোপুরি বিক্রয় বা মূল ব্যবসার প্রবৃদ্ধি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
প্রথম প্রান্তিকে পরিচালন নগদ প্রবাহেও উন্নতি হয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ২ টাকা ২ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৬০ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ বেড়েছে ১ টাকা ৪২ পয়সা বা প্রায় ২৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিচালন নগদ প্রবাহে এই উন্নতি হয়েছে। অর্থাৎ শুধু হিসাবভিত্তিক মুনাফাই বাড়েনি, বিক্রির বিপরীতে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে। লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নগদ অর্থের প্রবাহ ভালো থাকলে কোম্পানির দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো এবং শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়ার আর্থিক সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হতে পারে।
২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৫৫ টাকা ৩৩ পয়সা। পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে এই সম্পদমূল্য ছিল ৪২ টাকা ১০ পয়সা। আগের অর্থবছরের ৩০ জুন এই দুই সূচক ছিল যথাক্রমে ৫৪ টাকা ৮ পয়সা ও ৪০ টাকা ৮৫ পয়সা। ফলে তিন মাসে পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ১ টাকা ২৫ পয়সা এবং পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে বেড়েছে ১ টাকা ২৫ পয়সা।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কর-পরবর্তী নিট মুনাফা সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে দুই ধরনের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যই বেড়েছে। অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিকে আয়, নগদ প্রবাহ এবং নিট সম্পদমূল্য—তিনটি সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৮৬.১১ শতাংশ
প্রথম প্রান্তিকের পর দ্বিতীয় প্রান্তিকেও এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৭২ পয়সা। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৬২ পয়সা বা প্রায় ৮৬ দশমিক ১১ শতাংশ।
প্রথম প্রান্তিকে যেখানে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ২৪ পয়সা, সেখানে দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ১ টাকা ৩৪ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকেই কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি এক টাকার বেশি আয় করেছে। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় কম। এর অর্থ, আয় বাড়ার ধারা অব্যাহত থাকলেও আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার দুই প্রান্তিকে সমান ছিল না।
কোম্পানির প্রকাশিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ও স্থগিত কর আয় বৃদ্ধি এবং বিক্রয় আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন বিপণন এলাকা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিক্রি বাড়ানোর কৌশল দ্বিতীয় প্রান্তিকের শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রেখেছে। নতুন এলাকায় বিপণন কার্যক্রম সম্প্রসারণ কোম্পানির ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ। এই কৌশলের ফলে বিক্রয় আয় বৃদ্ধি পেলে তা মুনাফার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকের একক আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রথম ছয় মাসের সম্মিলিত ফলাফলও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৫৮ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৬ পয়সা। ফলে ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ১ টাকা ৬২ পয়সা বা প্রায় ১৬৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
এই হিসাব থেকে দেখা যায়, প্রথম দুই প্রান্তিকে কোম্পানিটির সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৬৯ গুণ হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকের ৪১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর দ্বিতীয় প্রান্তিকেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হওয়ায় ছয় মাসের সম্মিলিত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ছয় মাসের পরিচালন নগদ প্রবাহেও বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ছিল ৪ টাকা ১ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ বেড়েছে ৩ টাকা ১৪ পয়সা বা প্রায় ৩৬০ দশমিক ৯২ শতাংশ।
প্রথম ছয় মাসের এই প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের উন্নতি কোম্পানির নগদ প্রবাহকে শক্তিশালী করেছে। তবে এই ছয় মাসের নগদ প্রবাহকে শুধু দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফল হিসেবে দেখা যাবে না; এটি প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিক মিলিয়ে পুরো ছয় মাসের হিসাব। একইভাবে ছয় মাসের শেয়ারপ্রতি আয়ও দুই প্রান্তিকের সম্মিলিত ফলাফল।
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ টাকা ৭ পয়সা। পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে তা ছিল ৪২ টাকা ৮৫ পয়সা। আগের অর্থবছরের ৩০ জুন এই দুই সূচক ছিল যথাক্রমে ৫৪ টাকা ৮ পয়সা ও ৪০ টাকা ৮৫ পয়সা। ফলে ছয় মাসে পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ সম্পদমূল্য বেড়েছে ১ টাকা ৯৯ পয়সা এবং পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে বেড়েছে ২ টাকা।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কর-পরবর্তী নিট মুনাফা সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে। এতে প্রথম ছয় মাস শেষে কোম্পানিটির মুনাফা ও সম্পদমূল্য—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক চিত্র পাওয়া যায়।
তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৮৫.৩৩ শতাংশ
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকেও এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত ছিল। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৩৯ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৭৫ পয়সা। অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৬৪ পয়সা বা প্রায় ৮৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ২৪ পয়সা থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১ টাকা ৩৪ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ১ টাকা ৩৯ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের তিনটি প্রান্তিকেই একক প্রান্তিকের আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তবে এই তুলনা চলতি অর্থবছরের এক প্রান্তিকের সঙ্গে পরবর্তী প্রান্তিকের; আগের বছরের একই প্রান্তিকের সঙ্গে তুলনায় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ভিন্ন।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় বাড়ার পেছনেও কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বৃদ্ধি, স্থগিত কর আয় বৃদ্ধি, বিক্রয় আয় বৃদ্ধি এবং নতুন বিপণন এলাকার মাধ্যমে বিক্রির সম্প্রসারণ ভূমিকা রেখেছে। অর্থাৎ প্রথম প্রান্তিক থেকে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত কোম্পানি একই ধরনের ব্যবসায়িক কারণকে আয় বৃদ্ধির প্রধান ব্যাখ্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে প্রকাশিত তথ্যে নতুন কোনো বড় প্রকল্প, বিশেষ ব্যবসায়িক চুক্তি বা উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো নির্দিষ্ট কোনো ঘটনাকে তৃতীয় প্রান্তিকের আয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই আয় বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা কোন নির্দিষ্ট পণ্য, বাজার বা বিপণন এলাকায় ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিক্রয় ও মুনাফার তথ্য প্রয়োজন।
তৃতীয় প্রান্তিকের আয় বৃদ্ধির ফলে নয় মাসের সম্মিলিত শেয়ারপ্রতি আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ৭১ পয়সা। ফলে নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২ টাকা ২৬ পয়সা বা প্রায় ১৩২ দশমিক ১৬ শতাংশ।
নয় মাসের আয় বৃদ্ধির হার প্রথম প্রান্তিকের ৪১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশের তুলনায় কম হলেও সম্মিলিত মুনাফার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়েছে। এর একটি কারণ হলো, নয় মাসের সম্মিলিত হিসাবের মধ্যে তিনটি প্রান্তিকের আয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং আগের বছরের তুলনামূলক সময়েও তিনটি প্রান্তিকের আয় বিবেচনা করা হয়েছে। তাই একক প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির হার ও নয় মাসের সম্মিলিত প্রবৃদ্ধির হার এক হবে, এমন নয়।
নয় মাসে পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ২৩১ শতাংশের বেশি
এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের আর্থিক ফলাফলে শুধু শেয়ারপ্রতি আয় নয়, পরিচালন নগদ প্রবাহের উন্নতিও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ হয়েছে ৫ টাকা ৭৩ পয়সা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচক ছিল ১ টাকা ৭৩ পয়সা। ফলে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ৪ টাকা বা প্রায় ২৩১ দশমিক ২১ শতাংশ।
কোম্পানির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে। বিক্রয় বাড়ার পাশাপাশি বিক্রির বিপরীতে পাওনা অর্থ আদায় উন্নত হলে ব্যবসার দৈনন্দিন কার্যক্রমে নগদ অর্থের জোগান শক্তিশালী হয়। এর ফলে কাঁচামাল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটানো, সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রয়োজন পূরণের সক্ষমতা বাড়তে পারে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ১৩২ দশমিক ১৬ শতাংশ, অথচ পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ২৩১ দশমিক ২১ শতাংশ। অর্থাৎ নগদ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি হিসাবভিত্তিক মুনাফার প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি। এটি কোম্পানিটির জন্য ইতিবাচক লক্ষণ, কারণ আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নগদ অর্থ সংগ্রহেও উন্নতি হয়েছে।
তবে শুধু এই দুটি সূচকের তুলনা করে কোম্পানির হাতে লভ্যাংশ দেওয়ার জন্য কত টাকা নগদ অর্থ রয়েছে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পরিচালন নগদ প্রবাহের পাশাপাশি নগদ ও নগদ সমতুল্য অর্থের স্থিতি, ঋণ পরিশোধ, মূলধনী ব্যয়, চলতি দায় এবং অন্যান্য আর্থিক দায় বিবেচনা করতে হবে। কারণ, পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ আসলেও সেই অর্থের একটি অংশ ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজন হতে পারে।
শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যেও ধারাবাহিক উন্নতি
এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বেড়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৫৪ টাকা ৮ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে ৫৫ টাকা ৩৩ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বর ৫৬ টাকা ৭ পয়সায় দাঁড়ায়। পরে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তা বেড়ে ৫৭ টাকা ৪৬ পয়সায় পৌঁছায়।
অর্থাৎ নয় মাসে পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা বা প্রায় ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ২০২৫ সালের ৩০ জুন ৪০ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ৪২ টাকা ১০ পয়সা, ৩১ ডিসেম্বর ৪২ টাকা ৮৫ পয়সা এবং ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ ৪৪ টাকা ২৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ফলে নয় মাসে পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা প্রায় ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।
পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে সম্পদমূল্য বৃদ্ধির হার পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ সম্পদমূল্য বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি। কোম্পানির প্রকাশিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কর-পরবর্তী নিট মুনাফা সম্পদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কারণে দুই ধরনের সম্পদমূল্যই বেড়েছে। তবে সম্পদমূল্য বাড়া মানেই একই পরিমাণ নগদ অর্থ কোম্পানির হাতে জমা হয়েছে, এমন নয়। সম্পদমূল্য ও নগদ অর্থের অবস্থান আলাদা বিষয় হওয়ায় লভ্যাংশের সম্ভাবনা নির্ধারণে উভয় সূচকই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ঋণমান ‘বিবিবি’, পূর্বাভাস স্থিতিশীল
কোম্পানিটিকে ওয়াসো ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি (বিডি) লিমিটেড দীর্ঘমেয়াদে ‘বিবিবি’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৩’ ঋণমান দিয়েছে। ঋণমানের পূর্বাভাস রাখা হয়েছে স্থিতিশীল। ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হালনাগাদ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।
ঋণমান কোম্পানিটির আর্থিক ঝুঁকি ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে স্থিতিশীল পূর্বাভাস থাকলেই কোম্পানি বেশি লভ্যাংশ দেবে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। লভ্যাংশের সিদ্ধান্তে পূর্ণ বছরের মুনাফা, নগদ অর্থের প্রাপ্যতা, ঋণ ও অন্যান্য দায় এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গত বছর ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড, এবার কী হতে পারে?
এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে পরিচালকদের ও উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে অন্য শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছিল। অর্থাৎ আগের অর্থবছরে কোম্পানিটি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এবার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ডিভিডেন্ডের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফল বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হয়ে উঠেছে।
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হবে। এই সভায় পূর্ণ বছরের আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনার পর ডিভিডেন্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে আগাম কোনো নির্দিষ্ট হার ঘোষণা করা হয়নি।
এবার ডিভিডেন্ডবাড়ার পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হলো, প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের ১ টাকা ৭১ পয়সা থেকে বেড়ে ৩ টাকা ৯৭ পয়সা হয়েছে। অর্থাৎ নয় মাসের শেয়ারপ্রতি আয় আগের বছরের তুলনায় ১৩২ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ২৩১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এসব সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করলে কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া যায়।
যদি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকেও মুনাফার ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে পূর্ণ বছরের শেয়ারপ্রতি আয় আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় বেশি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কোম্পানির নগদ প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে এবং দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয়, ঋণ পরিশোধ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রয়োজন মেটানোর পর পর্যাপ্ত অর্থ অবশিষ্ট থাকলে বেশি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার আর্থিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে শেয়ারপ্রতি আয় ১৩২ শতাংশ বেড়েছে বলে ডিভিডেন্ডও একই হারে বাড়বে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। শেয়ারপ্রতি আয় ও ডিভিডেন্ডের হার এক বিষয় নয়। কোম্পানি মুনাফার কত অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করবে এবং কত অংশ ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণের জন্য সংরক্ষণ করবে, তা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। একই সঙ্গে ডিভিডেন্ডের হার নির্ধারণে কোম্পানির নগদ অর্থের অবস্থা, মূলধনের প্রয়োজন, আর্থিক দায় ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
কোন কারণে ডিভিডেন্ড বাড়তে পারে?
প্রথমত, কোম্পানির পূর্ণ বছরের শেয়ারপ্রতি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লে লভ্যাংশ বৃদ্ধির যুক্তি শক্তিশালী হতে পারে। প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় ৩ টাকা ৯৭ পয়সায় পৌঁছানো ইতিবাচক। অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকেও আয় বাড়লে পূর্ণ বছরের মুনাফা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, পরিচালন নগদ প্রবাহের উন্নতি ডিভিডেন্ড বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ৫ টাকা ৭৩ পয়সা হওয়ায় কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ সংগ্রহের ইতিবাচক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। বছর শেষে এই প্রবণতা বজায় থাকলে এবং নগদ অর্থের ওপর অন্য কোনো বড় চাপ না থাকলে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে।
তৃতীয়ত, নতুন বিপণন এলাকা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিক্রি বাড়ানোর কৌশল সফল হলে ভবিষ্যৎ আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। নতুন বাজারে বিক্রি বৃদ্ধি ও গ্রাহকভিত্তি সম্প্রসারণ দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির ব্যবসার পরিধি বাড়াতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত লাভজনকতা নির্ভর করবে বিক্রয় বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন, বিপণন, বিতরণ ও অন্যান্য ব্যয় কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তার ওপর।
চতুর্থত, পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বৃদ্ধি কোম্পানিটির হিসাবভিত্তিক সম্পদ অবস্থার উন্নতি নির্দেশ করে। মুনাফা থেকে সম্পদে সংযোজন অব্যাহত থাকলে আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে। যদিও এটি সরাসরি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না, তবু সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার মূল্যায়নে এটি ইতিবাচক বিষয়।
কোন কারণে ডিভিডেন্ড কমতে পারে?
ডিভিডেন্ড বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও কয়েকটি কারণে কোম্পানিটি আগের বছরের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড অপরিবর্তিত রাখতে পারে কিংবা কম ডিভিডেন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
প্রথমত, প্রথম নয় মাসের মুনাফা বৃদ্ধির একটি কারণ হিসেবে কোম্পানি স্থগিত কর আয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেছে। ফলে শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির পুরো অংশকে মূল ব্যবসার বিক্রয় ও পরিচালন কার্যক্রমের স্থায়ী উন্নতি হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। স্থগিত কর আয় ও অন্যান্য হিসাবভিত্তিক উপাদানের প্রভাব বাদ দিয়ে মূল ব্যবসার মুনাফা কতটা বেড়েছে, তা পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। যদি মুনাফা বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এমন উপাদানের ওপর নির্ভরশীল হয়, যা পরবর্তী সময়ে একইভাবে অব্যাহত নাও থাকতে পারে, তাহলে পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, নতুন বিপণন এলাকা সম্প্রসারণের কারণে বিক্রি বাড়লেও এসব এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও বাড়তে পারে। নতুন বিপণন কাঠামো, পণ্য সরবরাহ, প্রচার, কর্মী নিয়োগ ও বিতরণ কার্যক্রমে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হলে মুনাফার একটি অংশ পুনরায় ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মুনাফা বাড়লেও লভ্যাংশের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
তৃতীয়ত, নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি পেলেও কোম্পানির হাতে থাকা মোট নগদ অর্থ, ঋণ ও অন্যান্য দায়ের প্রকৃত অবস্থা জানা জরুরি। পরিচালন নগদ প্রবাহের পুরো অর্থ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করা যায় না। ব্যবসা পরিচালনা, সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ, কর, ঋণের কিস্তি এবং প্রয়োজনীয় মূলধনী ব্যয় মেটানোর জন্য অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। এসব খাতে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হলে ক্যাশ ডিভিডেন্ড বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হতে পারে।
চতুর্থত, অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে বিক্রয় আয় কমে গেলে, পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেলে কিংবা কর-পরবর্তী মুনাফায় প্রত্যাশিত উন্নতি না হলে পূর্ণ বছরের আয় প্রথম নয় মাসের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। এ কারণে শুধু নয় মাসের আর্থিক ফলাফলের ভিত্তিতে লভ্যাংশের হার নির্ধারণ করা উচিত নয়।
পঞ্চমত, কোম্পানির ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা থাকলে পরিচালনা পর্ষদ মুনাফার একটি বড় অংশ সংরক্ষণ করতে পারে। নতুন বাজারে প্রবেশ, উৎপাদন ও বিপণন সক্ষমতা বাড়ানো অথবা অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রয়োজন পূরণের জন্য অর্থের প্রয়োজন হলে বেশি লভ্যাংশের পরিবর্তে তুলনামূলক কম লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
১০ শতাংশের বেশি ক্যাশ ডিভিডেন্ড কি সম্ভব?
প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফল বিবেচনায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ১০ শতাংশের বেশি ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ, শেয়ারপ্রতি আয় ও পরিচালন নগদ প্রবাহ—দুই ক্ষেত্রেই বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একই সঙ্গে পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও বেড়েছে। এসব সূচক অর্থবছর শেষে বজায় থাকলে ডিভিডেন্ড বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি তৈরি হতে পারে।
তবে ডিভিডেন্ড ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ, ২০ শতাংশ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট হারে বাড়বে—এমন পূর্বাভাস দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত মুনাফা, শেয়ারপ্রতি আয়, নগদ অর্থের স্থিতি, মোট বিতরণযোগ্য মুনাফা এবং পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশ প্রয়োজন। কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধির হার সরাসরি ডিভিডেন্ড বৃদ্ধির হারে রূপান্তরিত হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
এ ছাড়া আগের বছরের ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের সঙ্গে চলতি বছরের সম্ভাব্য ডিভিডেন্ড তুলনা করার সময় ডিভিডেন্রে ধরন ও যোগ্য শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। আগের বছরের সুপারিশে পরিচালক ও উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে অন্য শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের কথা বলা হয়েছিল। চলতি বছরের সিদ্ধান্তে কারা ডিভিডেন্ড পাওয়ার যোগ্য হবেন এবং কী ধরনের ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হবে, তা পরিচালনা পর্ষদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
সামগ্রিকভাবে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফল ইতিবাচক। প্রথম প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ৪১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বেড়েছে ৮৬ দশমিক ১১ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে বেড়েছে ৮৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। নয় মাসের সম্মিলিত হিসাবে শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ১৩২ দশমিক ১৬ শতাংশ। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ২৩১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত বাদে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।
এই ধারাবাহিক উন্নতি চলতি অর্থবছরে লভ্যাংশ বাড়ার সম্ভাবনার পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে পূর্ণ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক ফলাফল এবং নগদ অর্থের প্রকৃত অবস্থার ওপর। আগামী ৩১ অক্টোবরের পরিচালনা পর্ষদের সভায় নিরীক্ষিত হিসাব বিবেচনার পর লভ্যাংশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের জন্য শুধু শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির হার নয়, স্থগিত কর আয়ের প্রভাব, বিক্রয় ও মুনাফার স্থায়িত্ব, পরিচালন নগদ প্রবাহ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক ব্যয়ের প্রয়োজনও পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
এসএ খান/
পাঠকের মতামত:
- মুনাফা বেড়েছে ১৩২%, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ডিভিডেন্ডে কী চমক আসছে?
- বারাকা পাওয়ারের মুনাফায় বড় উল্লম্ফন, ডিভিডেন্ডে কী সিদ্ধান্ত আসছে?
- বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান কমায় মুনাফায় বড় উল্লম্ফন, ডিভিডেন্ডে কী সিদ্ধান্ত আসছে?
- ৭ রোগের চিকিৎসায় এক লাখ টাকা, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম
- শিক্ষকদের মিউচুয়াল ট্রান্সফার নিয়ে মুখ খুললেন প্রতিমন্ত্রী
- ৭ নভেম্বর ছুটি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত, যা জানাল সরকার
- মুখের দাগ নিয়ে মুখ খুললেন জামায়াত আমির
- ডিভি লটারিতে আবেদন করতে বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি তথ্য
- হাসনাতের বক্তব্যের জবাবে যা বললেন স্নিগ্ধ
- ‘সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী’
- ফেসবুকের ‘রিচ’ আর থাকছে না, পারফরম্যান্স মাপবেন যেভাবে
- হারানো ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করবেন যেভাবে
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার আজকের দাম
- তাপমাত্রা নিয়ে নতুন পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- ওমরাহ যাত্রীদের জন্য বড় সুখবর
- তিন ডজন মন্ত্রীর বিদায়ের ইতিহাস: ইশরাকের বিদায় যেভাবে ব্যতিক্রম
- চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- ব্যাংকের ভল্ট থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা উধাও!
- ছয় গ্রুপের পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের নতুন উদ্যোগ
- ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় ফুডপান্ডার স্বস্তি
- ব্যাংকে বাড়ছে আমানত, কমছে সুদ; চাপে সঞ্চয়কারীরা
- টিকিট মিলছে না যাত্রীদের, রেলওয়ের ভেতরে কী চলছে?
- সুখবর! সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
- ড. ইউনূস থেকে ইলন মাস্ক—রাবণের পোস্টারে যাঁদের ছবি
- বিমায় জালিয়াতি ও জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধে কড়া নিয়ম জারি
- উপস্থাপিকা সামিয়া আফরিনের ভালোবাসার আবেগঘন গল্প
- বিদেশে বাংলাদেশিদের ব্যয়ের ধারেকাছেও নেই বিদেশিরা
- অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় মাদকসহ আটক নারী-পুরুষ ৮৪
- মৃত্যুর গুজবের মধ্যেই প্রকাশ্যে হাজির কিম জং উন
- ১৫ টাকার শেয়ার ৪২ টাকা, তারপর ১১ টাকা: ডাবল ধাক্কায় সর্বশান্ত বিনিয়োগকারীরা
- সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সুইটিকে নিয়ে মুখ খুললেন নজরুলের বাবা
- ‘আমার চাকরি নিয়ে আমার চেয়ে বেশি টেনশন তাদের’
- দীর্ঘদিন লে-অফের পর কেয়া গ্রুপে নতুন সিদ্ধান্ত
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য
- ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
- ইশরাকের পদত্যাগকে যেভাবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক নজরে
- মক্কা-মদিনা ছাড়া সৌদির আকাশসীমা অনিরাপদ ঘোষণা
- সামনে এলো নজরুলের পুরোনো ফেসবুক পোস্ট
- নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের পর ইশরাকের বিস্ফোরক পোস্ট
- ডলারের বাজারে বড় পদক্ষেপ বাংলাদেশ ব্যাংকের
- ‘আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে’
- ইশরাক বিতর্কের মাঝেই ববি হাজ্জাজের অনুসারীদের অভিযান
- যেভাবে গ্রেফতার হলেন ফজলুল হক আমিনী
- সরবরাহ সংকট কাটিয়ে মুনাফায় ফিরছে রানার, ডিভিডেন্ড বৃদ্ধিতে বাধা কোথায়?
- মুনাফায় উল্লম্ফন, সম্পদমূল্য বৃদ্ধি—প্রিমিয়ার সিমেন্টের ডিভিডেন্ডে নতুন সম্ভাবনা
- আয় ও সম্পদমূল্য বাড়লেও যে কারণে ডিভিডেন্ড বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা
- ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি স্বামী -স্ত্রী, জানা গেল আসল সত্য
- সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সুইটিকে নিয়ে মুখ খুললেন নজরুলের বাবা
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক নজরে
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের সোনার দামের নতুন তালিকা
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার আজকের দাম জেনে নিন
- ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেট সোনার নতুন দাম প্রকাশ
- পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারে বড় উত্থানের পূর্বাভাস গবেষণা প্রতিষ্ঠানের
- সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শির'চ্ছেদ যা বললেন শায়খ
- শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ
- ডিভিডেন্ড বিতরণ না করায় ৯ কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
- শেয়ারবাজারের ১৭০০ কোটি টাকার দায়িত্ব নিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান
- ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ বিএসইসির
- বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলসের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- নাহি অ্যালুমিনিয়ামের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশের তারিখ জানাল ৩৪ কোম্পানি
- সালভো কেমিক্যালের ডিভিডেন্ড ঘোষণা
শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর
- মুনাফা বেড়েছে ১৩২%, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের ডিভিডেন্ডে কী চমক আসছে?
- বারাকা পাওয়ারের মুনাফায় বড় উল্লম্ফন, ডিভিডেন্ডে কী সিদ্ধান্ত আসছে?
- বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান কমায় মুনাফায় বড় উল্লম্ফন, ডিভিডেন্ডে কী সিদ্ধান্ত আসছে?
- ছয় গ্রুপের পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের নতুন উদ্যোগ






.jpg&w=50&h=35)
.jpg&w=50&h=35)
.jpg&w=50&h=35)

