×
ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

৭ রোগের চিকিৎসায় এক লাখ টাকা, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম

২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৬:০৯:৫০
৭ রোগের চিকিৎসায় এক লাখ টাকা, জেনে নিন আবেদনের নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদ্‌রোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার জন্য এককালীন এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে এ কর্মসূচির আওতায় মোট ৬৫ হাজার রোগীকে সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৫০ কোটি টাকা। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় বহনে সহায়তা করা এবং তাঁদের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। নির্ধারিত সাতটি রোগের মধ্যে কোনো একটিতে আক্রান্ত রোগী এ সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদন করলেই অনুদান পাওয়া নিশ্চিত হবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাছাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে এ কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ওই অর্থ বছরে ৫৬১ জন রোগীকে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কর্মসূচির বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে এ খাতে ৩০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ ছিল। ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে তা বাড়িয়ে ৬৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এ অর্থ দিয়ে ৬৫ হাজার রোগীকে এককালীন এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।

অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। রোগী নির্বাচনের সময় তাঁর আর্থিক অবস্থা এবং পরিবারের আয়-ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেসব রোগীর জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এবং যাঁদের জীবন সংকটাপন্ন, তাঁদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু, নারী ও বয়স্ক রোগীদের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখা হবে।

এ কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে পারবেন রোগী নিজে অথবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য, অভিভাবক কিংবা আইনগত প্রতিনিধি। আবেদন করার সময় রোগীর পরিচয়, রোগের ধরন, চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা এবং আর্থিক পরিস্থিতির প্রমাণ হিসেবে নির্ধারিত কাগজপত্র জমা দিতে হবে। রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি দিতে হবে। শিশু রোগীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদের কপি প্রয়োজন হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবেদনকারী, অভিভাবক বা আইনগত প্রতিনিধির জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনির বিস্তারিত তথ্যও দিতে হবে।

আবেদনের সঙ্গে রোগী অথবা তাঁর অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি এবং রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপি দিতে হবে। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের জন্য করা প্রযোজ্য পরীক্ষার রিপোর্ট, যেমন টিস্যু ডায়াগনস্টিক, হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোন ম্যারো বা বায়োপসি রিপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে।

আবেদনে ভুল বা অসত্য তথ্য দেওয়া কিংবা ভুয়া সনদপত্র জমা দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে। একই অর্থ বছরে একজন ব্যক্তি একবার এবং সম্পূর্ণ জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এ আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনুদান গ্রহণের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

আগ্রহী রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আবেদনপদ্ধতি, অনলাইন ফরম, জমাদানের সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইট বা সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা উচিত। নির্ধারিত নিয়মে আবেদন জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য রোগীদের অনুদান দেওয়া হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে