×
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

‘মুহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের ঠাট্টা, মুসলিম বিশ্বে শুরু বিতর্ক

২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১০:৩৮:৩৬
‘মুহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের ঠাট্টা, মুসলিম বিশ্বে শুরু বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুসলিম বিশ্বে ‘মুহাম্মদ’ নামের ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে ঠাট্টা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালটনে এক নির্বাচনি সমাবেশে ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে ব্যঙ্গ করার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি উড়োজাহাজের হ্যাঙ্গারে আয়োজিত ওই সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম মনে না থাকলে ‘মুহাম্মদ’ বলে ডাকলেই চলবে। তাঁর দাবি, এতে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে তিনি এভাবে ডাকছেন এবং কখনো ভুল হয়নি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এরপর তিনি ‘মুহাম্মদ’ নামের কয়েকজনকে কল্পিতভাবে প্রশ্ন করার ভঙ্গিতে জানতে চান, তাঁরা প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না। তাঁর এ মন্তব্যে সমাবেশে উপস্থিত জনতার প্রতিক্রিয়া ছিল মৃদু।

মুসলিম বিশ্বে ‘মুহাম্মদ’ ছেলেদের বহুল প্রচলিত নামগুলোর একটি। ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নামের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে অনেক মুসলিম পরিবার তাঁদের সন্তানদের এ নাম রাখেন। তবে নামটির জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে মুসলিম পরিচয়কে বিদ্রূপ করার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মী ও মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন।

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর বক্তব্যে অভিবাসন, মুসলিম পরিচয় এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে সমালোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালি ও মুসলিম বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি মুসলিম ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদ এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরকে লক্ষ্য করেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইলহান ওমর সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং পরে দেশটির কংগ্রেস সদস্য হন। ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচকদের অভিযোগ, তাঁর এ ধরনের মন্তব্য মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এবং তাঁদের নিয়ে বিদ্রূপের পরিবেশ তৈরি করে।

সমাবেশে ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।

এদিকে, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ এবং তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ দমনের উদ্যোগকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে মুসলিম পরিচয়, অভিবাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি রাজনীতিতে সংখ্যালঘুদের নিয়ে বক্তব্যের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে