×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আটকের বিতর্কের মধ্যেই ধ্রুব রাঠিকে নিয়ে মোদির নতুন চাল 

২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১১:২৮:৫২
আটকের বিতর্কের মধ্যেই ধ্রুব রাঠিকে নিয়ে মোদির নতুন চাল 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে ২০১৮ সালে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় নতুন করে সমন জারি করেছেন দিল্লির একটি আদালত। ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট ২’ শিরোনামের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে করা মামলাটিতে আগামী ১৭ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গুরগাঁওয়ে রাঠির বাসভবনে নতুন সমন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

দিল্লির সাকেত জেলা আদালতের বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট রাহুল জৈন গত ১২ অক্টোবর সমন জারির আদেশ দেন। মামলাকারী বিকাশ পান্ডের আইনজীবী সমাক্ষ শর্মা আদালতকে জানান, ধ্রুব রাঠি সাধারণত অস্ট্রিয়ায় বসবাস করেন। তবে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি ভারতে এসেছেন। এ কারণে দ্রুত সমন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে নতুন করে সমন জারির আবেদন করা হয়।

মামলাটি ২০১৮ সালে দায়ের করেন বিকাশ পান্ডে। তিনি ‘আই সাপোর্ট নরেন্দ্র মোদি’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক পেজের প্রতিষ্ঠাতা। পান্ডের অভিযোগ, ধ্রুব রাঠির ভিডিওতে তাকে বিজেপির আইটি সেলের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একই ভিডিওতে বিজেপির আইটি সেলের বিরুদ্ধে ভুয়া খবর ছড়ানোর অভিযোগ প্রত্যাহার করাতে মহাবীর প্রসাদ নামের এক ব্যক্তিকে মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ৫০ লাখ রুপি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এসব বক্তব্যকে মানহানিকর উল্লেখ করে আদালতের দ্বারস্থ হন পান্ডে।

এদিকে, নির্বাচনি তালিকায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে বর্তমানে ভারতে রয়েছেন ধ্রুব রাঠি। গত ১০ অক্টোবর গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬ এলাকায় তার বাসভবনে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত হন এবং তাকে আটক করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছিল।

আটকের দুই দিন আগে বেঙ্গালুরুতে সিজেপির একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন রাঠি। পরে বুধবার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, গুরগাঁওয়ের বাসা থেকে বের হওয়ার পর সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা নম্বরবিহীন গাড়িতে তাকে অনুসরণ করেন। তার দাবি, পুলিশ তার চলাফেরার ওপর নজর রাখছিল। পাশাপাশি, ১৬ অক্টোবর যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আরেকটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গেলে তাকে পুনরায় আটক করা হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ধ্রুব রাঠির এসব অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের মানহানির মামলাটি নিয়ে আদালতের পরবর্তী শুনানি ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মামলার অভিযোগ ও রাঠির সাম্প্রতিক আটক হওয়ার ঘটনা আলাদা বিষয়; আদালতে মানহানির অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে