×
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংকের সেবা, চালু করবেন যেভাবে

২০২৬ অক্টোবর ১১ ০৯:২৪:১২
গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংকের সেবা, চালু করবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থেকেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আলোচনায় এসেছে স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য এ সুবিধা চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, উপকূল কিংবা সমুদ্রের মতো জায়গায় প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের সংকেত না থাকলেও সীমিত যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ বা অ্যান্টেনা কেনার প্রয়োজন নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শুধু ৪জি ফোন ও বাংলালিংক সিম থাকলেই যে সবাই সেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন, তা নয়। ফোনের সামঞ্জস্য, স্যাটেলাইট কাভারেজ এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে সেবাটি চালু আছে কি না, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করে জটিল সেটআপ করার প্রয়োজন নেই। গ্রাহকেরা মাইবিএল অ্যাপে গিয়ে এ-সংক্রান্ত সেবা বা নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে পারেন। পাশাপাশি ফোনের সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক সেটিংস হালনাগাদ রাখা এবং ৪জি সুবিধা সক্রিয় আছে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজের বাইরে গেলে উপযুক্ত ফোন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে খোলা আকাশের নিচে থাকা সহায়ক হতে পারে। ভবন, পাহাড় কিংবা বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেই প্রতিবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইট সংযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের মডেল, অবস্থান, স্যাটেলাইট কাভারেজ এবং অপারেটরের নির্ধারিত শর্তের ওপর সংযোগ পাওয়া নির্ভর করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেবা চালুর প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সুবিধা বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলালিংক। দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এ সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএস দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন কোন প্যাক ও ফোনে সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত হতে বাংলালিংকের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।

স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবার মূল লক্ষ্য হলো প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে সীমিত যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা। দুর্গম এলাকা, সমুদ্র, উপকূল এবং দুর্যোগের সময় এ ধরনের প্রযুক্তি বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।

সেবার আওতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অনুযায়ী মেসেজিং, লোকেশনভিত্তিক সুবিধা এবং কিছু ইন্টারনেটসেবা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে প্রচলিত ৪জি বা ৫জি নেটওয়ার্কের মতো উচ্চগতির ইন্টারনেট সব ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে সাধারণত নির্দিষ্ট স্থানে ডিশ বা অ্যান্টেনা বসাতে হয়। কিন্তু ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে উপযুক্ত মোবাইল ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। ফলে বাড়ি বা অফিসে আলাদা ডিশ বসানোর প্রয়োজন হয় না। তবে এ সুবিধা ব্যবহার করতে ফোনের প্রযুক্তিগত সামঞ্জস্য এবং সংশ্লিষ্ট অপারেটরের সেবা চালু থাকা জরুরি।

প্রতিবেদনে বর্তমানে বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য সেবাটি চালুর কথা বলা হয়েছে। অন্য অপারেটরের গ্রাহকেরা একই সুবিধা পাবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তাই শুধু ৪জি ফোন থাকলেই স্টারলিংকভিত্তিক সেবা ব্যবহার করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ফোনে স্যাটেলাইট সংযোগ না পেলে প্রথমে সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক সেটিংস পরীক্ষা করতে হবে। এরপর মাইবিএল অ্যাপে সংশ্লিষ্ট সেবার তথ্য এবং নিজের নম্বরের যোগ্যতা যাচাই করা যেতে পারে। তবুও সংযোগ না এলে বাংলালিংকের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করে সেবার প্রাপ্যতা, কাভারেজ, সামঞ্জস্যপূর্ণ ফোন এবং খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে, সেবাটি সবার ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যবহার শুরুর আগে অপারেটরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে