×
ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে ঘনিয়ে আসছে মহাবিপদ!

২০২৬ অক্টোবর ০৯ ১১:১৫:৩৭
ডিসেম্বরে ঘনিয়ে আসছে মহাবিপদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও চরম হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে শক্তিশালী এল-নিনোর প্রভাবে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান এল-নিনো ডিসেম্বর মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং এর প্রভাব ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যে, এটি ১৯৫০ সালের পর রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী এল-নিনো ঘটনাগুলোর একটিতে পরিণত হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক সংস্থা ডব্লিউএমও তাদের মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেটে’ এ পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই জলবায়ুগত পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত জলবায়ু পরিবর্তন এল-নিনোর প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

ডিসেম্বরেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পূর্বাভাস

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে এল-নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর ফলে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। অঞ্চলভেদে বৃষ্টির ঘাটতি বা অতিবৃষ্টির কারণে খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

২০২৬ সালের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই তিন মাসে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। সমুদ্রের এই তাপমাত্রাগত পরিবর্তন বৈশ্বিক আবহাওয়া ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতি, বাস্তুতন্ত্র ও মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ১৩টি শীর্ষ আবহাওয়া কেন্দ্রের সম্মিলিত পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন তৈরি করা হয়েছে।

রেকর্ড শক্তিশালী এল-নিনোর আশঙ্কা

ডব্লিউএমওর প্রধান সেলেস্তে সাউলো বলেছেন, এল-নিনো ইতোমধ্যে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে এবং দ্রুত আরও শক্তিশালী হচ্ছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের ঘটনাটি ১৯৫০ সালের পর রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী এল-নিনোগুলোর একটি হতে পারে।

এল-নিনো মূলত নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আসে, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতকে প্রভাবিত করতে পারে।

সেলেস্তে সাউলোর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এল-নিনো নিজে পৃথিবীতে নতুন করে তাপ তৈরি করে না; বরং মহাসাগরে সঞ্চিত তাপ মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। বর্তমানে মহাসাগর আগের তুলনায় বেশি উষ্ণ থাকায় এই প্রক্রিয়ার প্রভাবও বেশি হতে পারে।

সমুদ্রের তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এল-নিনো শনাক্তে ব্যবহৃত মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি সূচক গত জুনে স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। আগস্টে তা বেড়ে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

২০২৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে এই তাপমাত্রাগত অস্বাভাবিকতা প্রায় ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এমনটি হলে তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর থেকে নতুন সর্বোচ্চ রেকর্ড তৈরি হতে পারে। তুলনায়, ২০১৫-২০১৬ সালের শক্তিশালী এল-নিনোর সময় এই সূচক স্বাভাবিকের চেয়ে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয়েছিল।

তবে এটি একটি পূর্বাভাস; বাস্তবে তাপমাত্রা কতটা বাড়বে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব কী হবে, তা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে বাড়তে পারে প্রভাব

আগের শক্তিশালী এল-নিনোর সময়ও বৈশ্বিক তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল ছিল রেকর্ডের দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর এবং ২০২৪ সাল ছিল এ যাবৎকালের সবচেয়ে উষ্ণ বছর। ওই সময়ে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পবিপ্লব-পূর্ববর্তী ১৮৫০-১৯০০ সময়ের গড়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে এল-নিনো সবচেয়ে শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে এর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রায় যে পরিবর্তন ঘটে, তার পূর্ণ প্রভাব অনুভূত হতে আরও সময় লাগতে পারে।

এবারের এল-নিনোর প্রভাব ইতোমধ্যে কিছু অঞ্চলে দেখা দিতে শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্য আমেরিকার কিছু এলাকায় খরার কারণে ফসল ও পশুপাখির ক্ষতির কথা বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মাসগুলোতে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। কোথাও তীব্র গরম ও পানির সংকট বাড়তে পারে, আবার কোথাও অতিবৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব কী হবে, তা জানতে স্থানীয় ও আঞ্চলিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করা জরুরি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে