×
ঢাকা, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

সুদমুক্ত ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

২০২৬ অক্টোবর ০৯ ০৯:৪৭:৩২
সুদমুক্ত ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনায় প্রচলিত সুদের পরিবর্তে কর্জ ও উজরাহ বা সেবামূল্যভিত্তিক নীতি অনুসরণ, নগদ টাকা উত্তোলনে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি নির্ধারণ এবং ফি বা চার্জ পরিবর্তনের অন্তত ৩০ দিন আগে গ্রাহককে জানানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগে জারি করা এ-সংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো তুলে ধরা হয়। ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের পণ্য, চুক্তি, লেনদেন, ফি, চার্জ ও পরিচালন পদ্ধতির প্রতিটি পর্যায়ে শরিয়াহর নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

সুদের পরিবর্তে কর্জ ও উজরাহভিত্তিক ব্যবস্থা

নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে কর্জ ও উজরাহ বা সেবামূল্যভিত্তিক নীতি অনুসরণ করতে হবে। কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা, নগদ টাকা উত্তোলন এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো লেনদেন কর্জে হাসানার নীতির আওতায় পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

কর্জে হাসানা হলো সুদমুক্ত ঋণব্যবস্থা। এ ধরনের ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ বা সুবিধা নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঋণ প্রদানের কারণে সুদ বা ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত অতিরিক্ত সুবিধা আদায়ের সুযোগ থাকবে না।

নগদ টাকা তুলতে শতাংশ হারে ফি নেওয়া যাবে না

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ফি আরোপের নিয়মও নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনা অনুযায়ী, নগদ উত্তোলনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি নেওয়া যাবে। তবে উত্তোলিত অর্থের পরিমাণের ওপর শতাংশ হারে ফি আরোপ করা যাবে না।

এর ফলে নগদ উত্তোলনের চার্জ নির্ধারণে ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট অঙ্কের ভিত্তিতে ফি ধার্য করতে হবে। এ ক্ষেত্রে উত্তোলিত টাকার পরিমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শতাংশ হারে চার্জ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

ফি বা চার্জ পরিবর্তনের আগে ৩০ দিনের নোটিশ

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের ফি বা চার্জ পরিবর্তন করতে হলে গ্রাহককে অন্তত ৩০ দিন আগে জানাতে হবে। এতে কার্ড ব্যবহারের খরচসংক্রান্ত পরিবর্তন সম্পর্কে আগাম তথ্য পাবেন গ্রাহকরা। পাশাপাশি পরিবর্তিত ফি ও চার্জ বিবেচনায় নিয়ে নিজেদের আর্থিক পরিকল্পনা করার সুযোগও তৈরি হবে।

নিষিদ্ধ পণ্য ও সেবায় ব্যবহার করা যাবে না

শরিয়াহ অনুযায়ী নিষিদ্ধ পণ্য ও সেবা কেনাকাটায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে না। নির্দেশনায় মদ, জুয়া ও তামাকের মতো পণ্য ও সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কার্ডের লেনদেনের ধরনও শরিয়াহর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

মুদারাবাভিত্তিক আমানতের তহবিল ব্যবহারে বিধিনিষেধ

কার্ড পরিচালনার জন্য গ্রাহকদের মুদারাবাভিত্তিক সঞ্চিত আমানতের তহবিল ব্যবহার না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ে মুদারাবা একটি বিনিয়োগভিত্তিক চুক্তি, যেখানে নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী মুনাফা বণ্টন করা হয়। ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনায় তহবিল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও শরিয়াহর নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সব মিলিয়ে, ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন, ফি নির্ধারণ, তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহককে তথ্য জানানোর ক্ষেত্রে শরিয়াহসম্মত নীতি অনুসরণ নিশ্চিত করতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে কার্ড পরিচালনার সময় নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে