×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ডিভিডেন্ড ঘোষণার পাশাপাশি ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানালো অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ

২০২৬ অক্টোবর ০৮ ১৯:১৫:০১
ডিভিডেন্ড ঘোষণার পাশাপাশি ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানালো অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করেছে। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। অর্থাৎ প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে ৩ টাকা ৫০ পয়সা ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাবেন বিনিয়োগকারীরা। তবে এই ডিভিডেন্ড অনুমোদনের জন্য কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভাটি জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।

কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মোট বিক্রয় আয় হয়েছে ২ হাজার ৯৫৪ কোটি ৮১ লাখ ১৮ হাজার ৪৭৫ টাকা। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ২ হাজার ৭৭২ কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭৯ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রয় আয় বেড়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

একই সময়ে কোম্পানিটির মোট মুনাফা হয়েছে ৭০৬ কোটি ৯৭ লাখ ৩ হাজার ৭৭৬ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬৬৩ কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার ১৮৭ টাকা। অর্থাৎ মোট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালন মুনাফাও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ২৩৬ কোটি ৪ লাখ ৬৪ হাজার ২৬১ টাকা। আগের অর্থবছরে এ মুনাফা ছিল ২৩১ কোটি ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪০৩ টাকা। সে হিসাবে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ১৪ শতাংশ।

কর-পূর্ব মুনাফায়ও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আলোচ্য অর্থবছরে কর-পূর্ব মুনাফা হয়েছে ২৭৯ কোটি ৫ লাখ ৪ হাজার ৮০৩ টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৬৮ কোটি ৯৯ লাখ ৪৯ হাজার ৭৩০ টাকা। এতে কর-পূর্ব মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

তবে আয় ও মুনাফার বেশির ভাগ সূচকে উন্নতি হলেও কর-পরবর্তী নিট মুনাফায় সামান্য পতন হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৯৯ কোটি ৯৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৪ টাকা। আগের অর্থবছরে এই মুনাফা ছিল ২০১ কোটি ৪ লাখ ২৬ হাজার ৬১৪ টাকা। অর্থাৎ নিট মুনাফা কমেছে প্রায় ১ কোটি ১১ লাখ টাকা বা ০ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

আয় সামান্য কমেছে, বেড়েছে শেয়ারপ্রতি সম্পদ

কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হয়েছে ১০ টাকা। আগের অর্থবছরে ইপিএস ছিল ১০ টাকা ৬ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস কমেছে ৬ পয়সা বা প্রায় ০ দশমিক ৬ শতাংশ।

কোম্পানির দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আয়কর ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণেই ইপিএস কমেছে।

অন্যদিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি এনএভি দাঁড়িয়েছে ৬৯ টাকা ৩৫ পয়সায়। ২০২৫ সালের ৩০ জুন যা ছিল ৬২ টাকা ৩৫ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৭ টাকা বা প্রায় ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ।

এ ছাড়া কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বা এনওসিএফপিএস বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এটি দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৭৯ পয়সায়, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১১ টাকা ৪৫ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ৩৪ পয়সা বা প্রায় ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড

আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ। অর্থাৎ প্রতিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ৩ টাকা ৫০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ পাবেন যোগ্য শেয়ারহোল্ডাররা।

তবে পরিচালনা পর্ষদের এই সুপারিশ চূড়ান্ত নয়। কোম্পানিটির ৪৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন সাপেক্ষে লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে।

৩০ নভেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা

কোম্পানির ৪৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা আগামী সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভাটি ডিজিটাল বা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে।

বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশ করা ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড অনুমোদনসহ অন্যান্য নির্ধারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে।

৪ নভেম্বর রেকর্ড তারিখ

ডিভিডেন্ড পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের জন্য কোম্পানিটি ৪ নভেম্বর ২০২৬ রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করেছে। অর্থাৎ ওই তারিখে যেসব বিনিয়োগকারীর কাছে কোম্পানিটির শেয়ার থাকবে, তারাই ঘোষিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাওয়ার যোগ্য হবেন এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণে জমি কিনবে অলিম্পিক

বর্তমান ব্যবসার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য জমি কেনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ। কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য নির্মাণকাজ পরিচালনার উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মদনপুর মৌজায় দুটি জমি কেনা হবে।

এর মধ্যে প্রথম ধাপে মোট ৬৮ দশমিক ৫০ ডেসিমাল জমি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জমি কেনার জন্য মোট ১ কোটি ৬৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। সংশ্লিষ্ট জমি মদনপুর মৌজায় অবস্থিত এবং নির্ধারিত মালিকদের কাছ থেকে কোম্পানির নামে জমিটি কেনা হবে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপে ৬৯ দশমিক ৫৮ ডেসিমাল জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জমির জন্য মোট ১ কোটি ৭৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে।

অর্থাৎ দুটি জমি কিনতে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের জমির মূল্য বাবদ মোট ব্যয় হবে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তবে জমির মূল্যের বাইরে নিবন্ধনসহ অন্যান্য ব্যয়ও কোম্পানিটিকে বহন করতে হবে। এর মধ্যে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), কর এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের বিক্রয় আয়, মোট মুনাফা, পরিচালন মুনাফা ও কর-পূর্ব মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে আয়কর ব্যয় বাড়ায় কর-পরবর্তী মুনাফা ও ইপিএসে সামান্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর বিপরীতে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ও পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে। একই সঙ্গে ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য নতুন জমি কেনার সিদ্ধান্ত কোম্পানিটির পরবর্তী কার্যক্রমের দিকটিও তুলে ধরেছে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে