×
ঢাকা, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

বুয়েট কর্মকর্তা ছেলের বিরুদ্ধে শতবর্ষী মায়ের মামলা

২০২৬ অক্টোবর ০৭ ২২:১৮:২৭
বুয়েট কর্মকর্তা ছেলের বিরুদ্ধে শতবর্ষী মায়ের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ১২ বিঘা কৃষিজমি, আমবাগান ও বসতভিটাসহ পারিবারিক সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী তাঁর ১০০ বছর বয়সী মা রহিমা খাতুন ওরফে মনোয়ারা রেফুল।

রহিমা খাতুনের অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত মামলার কথা বলে তাঁর ও তাঁর স্বামীর টিপসই নেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই টিপসই ব্যবহার করে পারিবারিক সম্পত্তি ছেলে মো. মুখতারুজ্জামানের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কাউকে নিজের সম্পত্তি লিখে দেননি।

মুখতারুজ্জামান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত।

সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার পাশাপাশি পৈতৃক বসতভিটা থেকে তাঁকে ও ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনকে উচ্ছেদের চাপ দেওয়া এবং বাড়িটি মেরামতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন রহিমা খাতুন।

নিজের সম্পত্তির অধিকার ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে গত ৩১ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে ছেলে মুখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

মামলার অভিযোগে রহিমা খাতুন বলেন, তাঁর ছেলে মুখতারুজ্জামান তাঁর বাবাকে ভুল তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে টিপসইয়ের মাধ্যমে জমি নিজের নামে নেন। পরে একইভাবে তাঁর কাছ থেকেও টিপসই নেওয়া হয়।

তাঁর ভাষ্য, ‘জমি নিয়ে মামলা চলছে’—এ কথা বলে তাঁর ও তাঁর স্বামীর কাছ থেকে টিপসই নেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, সেই টিপসই ব্যবহার করে তাঁদের সম্পত্তি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।

রহিমা খাতুনের দাবি, তিনি কাউকে নিজের সম্পত্তি লিখে দেননি।

বর্তমানে ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে বালিয়াডাঙ্গা মাঝপাড়ার পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করছেন রহিমা খাতুন। তাঁর অভিযোগ, বাড়িটির অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। টিনের চাল ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে, বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে এবং কাঠের অংশে ঘুন ধরেছে।

বাড়িটি মেরামতের উদ্যোগ নিলেও মুখতারুজ্জামান বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁর।

রহিমা খাতুন বলেন, সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার পর তাঁকে ও ছোট ছেলে ইসমাইলকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ, থানায় অভিযোগ এবং জেলা লিগ্যাল এইডের দ্বারস্থ হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রহিমা খাতুনের ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেন বলেন, তাঁদের বাবা-মায়ের প্রায় ১২ বিঘা ধান ও আমের জমি এবং বসতভিটা রয়েছে। এসব সম্পত্তি বড় ভাই মুখতারুজ্জামানের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, মায়ের দেখাশোনা তিনিই করেন। অথচ বাড়িটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সেটি মেরামত করতে দেওয়া হচ্ছে না।

পরিবারের অন্য দুই সদস্য আলিম হোসেন ও খাইরুল হোসেনও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, সাত ভাই-বোনের মধ্যে ছয়জনই সম্পত্তির অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. মুখতারুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাত ৯টা পর্যন্ত তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বর্তমানে রহিমা খাতুন ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করছেন। সম্পত্তি নিয়ে করা মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে