×
ঢাকা, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জনই কেন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন না?

২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৮:২৭:৫৮
বাংলাদেশে ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জনই কেন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন না?

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে শেয়ারবাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের অনীহা দীর্ঘদিনের। দেশে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বসবাস এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে ১৯ কোটিরও বেশি, কিন্তু সুবিধাটোগী হিসাব বা বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্ট রয়েছে মাত্র ১৭ লাখের মতো। অর্থাৎ জনসংখ্যার ১ শতাংশেরও কম মানুষ শেয়ারবাজারে যুক্ত।

বাস্তব চিত্র আরও করুণ। অনেক বিনিয়োগকারীই শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড বা বন্ড ধরে রাখতে একাধিক বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে প্রকৃত বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ২ লাখের বেশি নয়, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশেরও কম।

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। ভারতে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ এবং নেপালে প্রায় ২৬ শতাংশ মানুষ শেয়ারবাজারে যুক্ত। উন্নত দেশগুলোতে এ হার আরও অনেক বেশি।

বিনিয়োগকারীদের অনীহার মূল কারণ

বাংলাদেশিরা যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে একেবারেই আগ্রহী নন—বিষয়টি তা নয়। ২০১০ সালের রেকর্ড দরপতনের আগে দেশের বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৩৩ লাখ ছাড়িয়েছিল। তবে ওই ভয়াবহ ধসের পর থেকেই বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমতে থাকে।

বাজারের অনীহার পেছনে মূল কারণগুলো হলো-

আস্থার সংকট ও জালিয়াতি: কিছু ব্রোকারেজ হাউস এবং ফান্ড ম্যানেজারদের তহবিল তছরুপের ঘটনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা মূলধন হারিয়েছেন।

ভুল আর্থিক বিবরণী: অনেক দুর্বল কোম্পানি নিজেদের আর্থিক তথ্যে অনিয়ম ঢাকা দিয়ে শেয়ারবাজারে এসেছে এবং পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীদের লোকসানে ফেলেছে।

ডিভিডেন্ড প্রদানে অনীহা: শত শত কোটি টাকা ব্যাংকে জমানো সত্ত্বেও অনেক ভালো কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের উপযুক্ত ক্যাশ ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দেয় না।

জঙ্ক শেয়ারে কারসাজি: ভালো শেয়ারে রিটার্ন না পেয়ে অনেক বিনিয়োগকারী কম পরিশোধিত মূলধনের দুর্বল বা 'জঙ্ক' শেয়ারের দিকে ঝুঁকেছেন, যা বাজার কারসাজিকারীদের সুযোগ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে নামমাত্র ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিয়ামক সংস্থার সিদ্ধান্তহীনতা: অতীতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। যেমন—মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ ১০ বছর বাড়ানো বা দুর্বল আর্থিক ভিত্তির কোম্পানিকে আইপিও অনুমোদনের মাধ্যমে বাজারে আসা নিশ্চিত করা।

নতুন সম্ভাবনা ও সংস্কারের উদ্যোগ

সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) জালিয়াতির শিকার বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে, যা ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। পাশাপাশি, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর গঠিত বিএসইসি-র নতুন কমিশন বাজার সংস্কারে বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা, তালিকাভুক্তি সহজ করা এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ভবিষ্যতের করণীয়

শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ও নতুন বিনিয়োগকারী টানতে বেশ কিছু বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি:

বাজারে ভালো ও শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করা।

একটি নির্ভরযোগ্য ইক্যুইটি বাজারের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গড়ে তোলা।

সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ারের দর কারসাজি ও মধ্যস্থতাকারীদের অনিয়ম কঠোর হস্তে দমন করা।

সূচক বা লেনদেনের আকার কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রণ না করে ভালো শাসন (গুড গভর্নেন্স) ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

রেগুলেটরি বডি যদি বিনিয়োগকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে, তবেই বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হবে।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে