×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংবিধান সংশোধনের নতুন প্যাঁচ! 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৮:৩৯:১৮
সংবিধান সংশোধনের নতুন প্যাঁচ! 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন এবং গণভোটের বিধান নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও ২০২৬ সালের গণভোটের ফলাফল আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ওই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে—আগের গণভোটের মাধ্যমে যেসব সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে ভোট হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনের সময় আবার গণভোটের প্রয়োজন হবে কি না। বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনর্বহালের পর।

সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের বিধান বাতিল করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট ওই বিধান বাতিলের অংশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে গণভোটের বিধান পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ৯ জুলাই ২০২৬ আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ওই রায় বহাল রাখে। ফলে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান আবার সাংবিধানিক কাঠামোর অংশ হয়ে যায়।

সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত রায়ে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাদ দেওয়ার বিষয়টি আদালত বাতিল করেছে এবং ১৯৯১ সালের ১২তম সংশোধনীর পর যে অবস্থায় ১৪২ অনুচ্ছেদ ছিল, সেটি পুনর্বহাল করা হয়েছে।

এদিকে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের বৈধতা ও জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন নিয়েও আদালতে প্রশ্ন উঠেছিল। মার্চ ২০২৬ সালে হাইকোর্ট জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ-সংক্রান্ত কয়েকটি বিধানের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেছিলেন। অর্থাৎ গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের সাংবিধানিক কাঠামো শুরু থেকেই আইনি বিতর্কের মধ্যে ছিল।

ফেব্রুয়ারির গণভোটে ভোটারদের সামনে জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক সংস্কারসংক্রান্ত একটি সমন্বিত প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব ছিল।

এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হলো—গণভোটে জনগণের সম্মতি পাওয়া সংস্কারগুলো সংবিধানের ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করতে সংসদ কীভাবে ১৪২ অনুচ্ছেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে এবং সেই প্রক্রিয়ায় আবার গণভোট প্রয়োজন হবে কি না। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও আইনজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। ফলে আগের গণভোটের ফল এবং পরবর্তী সাংবিধানিক সংশোধন—দুটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আইনি সম্পর্ক কী হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটি পক্ষের যুক্তি হলো, ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। অন্যদিকে, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হওয়ার পর সংবিধান সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সেটির প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা আলাদা সাংবিধানিক প্রশ্ন। ফলে শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হয়ে আদালতের ব্যাখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে মূল প্রশ্নগুলো হচ্ছে—ফেব্রুয়ারির গণভোটের ফল কীভাবে সাংবিধানিক সংশোধনে রূপ দেওয়া হবে, ১৪২ অনুচ্ছেদের পুনর্বহাল বিধান কোন পর্যায়ে প্রযোজ্য হবে এবং আগের গণভোটের পর নতুন গণভোটের প্রয়োজনীয়তা থাকলে তার সাংবিধানিক ভিত্তি কী হবে।

ফলে বিষয়টি এখন শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; এটি সংবিধানের সংশোধনক্ষমতা, জনগণের সম্মতি এবং সংসদের ক্ষমতার সীমা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত। আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়, সংসদীয় প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত ব্যাখ্যার মাধ্যমে আগামী দিনে এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা আসতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে