×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুধু মুখ দেখিয়েই আয় ১৮ লাখ টাকা, শুরু নতুন ট্রেন্ড

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ১৮:২৬:৫৮
শুধু মুখ দেখিয়েই আয় ১৮ লাখ টাকা, শুরু নতুন ট্রেন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোনো শুটিং স্পটে যেতে হবে না, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই, এমনকি পরিচালকের নির্দেশও শুনতে হবে না। অথচ আপনার চেহারা ব্যবহার করেই তৈরি হতে পারে এআই অভিনেতা বা অভিনেত্রী। আর সেই চেহারার ব্যবহারের বিনিময়ে পাওয়া যেতে পারে মোটা অঙ্কের অর্থ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তারের সঙ্গে চীনে তৈরি হয়েছে এমনই এক নতুন আয়ের পথ।

হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের মুখাবয়বের ব্যবহারের অধিকার ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছে লাইসেন্স দিচ্ছেন। সেই মুখ ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে এআই-নির্ভর ডিজিটাল চরিত্র, যেগুলো বিভিন্ন ধরনের ভিডিও, স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটক ও অন্যান্য কনটেন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির চেহারা কীভাবে এবং কতদিন ব্যবহার করা হবে, তার ওপর নির্ভর করে পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এর মূল্য ৫০ ইউয়ান বা প্রায় ৭ মার্কিন ডলার থেকে শুরু হচ্ছে। আবার নির্দিষ্ট ধরনের ব্যবহারের জন্য তা ১ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত উঠতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকার সমপরিমাণ।

এই নতুন ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সরাসরি অভিনয় করতে হচ্ছে না। তার চেহারার ডিজিটাল স্বত্ব বা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে সেটিকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন চরিত্রে রূপ দেওয়া হচ্ছে। ফলে একই মুখের পোশাক, পরিবেশ, অঙ্গভঙ্গি কিংবা সংলাপও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে।

চীনের ২৭ বছর বয়সী ব্যাংক কর্মকর্তা হুয়াংয়ের ঘটনাটি এ প্রবণতার একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বাড়তি আয়ের আশায় তিনি অনলাইনে নিজের চেহারা ব্যবহারের অধিকার দেওয়ার বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যে তার ডিজিটাল চেহারা সাতবার বিক্রি হয়। এতে তিনি প্রায় ২ হাজার ৬০০ ইউয়ান, অর্থাৎ প্রায় ৩৭০ মার্কিন ডলার আয় করেন।

চীনের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এখন চেহারা ব্যবহারের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে এআই কনটেন্ট নির্মাতাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কোন কাজে মুখটি ব্যবহার করা হবে, ব্যবহারের মেয়াদ কত এবং চুক্তির অন্যান্য শর্ত কী—এসব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে পারিশ্রমিক নির্ধারিত হচ্ছে।

এদিকে চীনে এআই-নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটকের বাজার দ্রুত বাড়ছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রতিটি দৃশ্যের জন্য অভিনেতা নিয়োগ, শুটিংয়ের আয়োজন, পোশাক, সেট ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় যে খরচ হয়, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার একটি অংশ কমানো সম্ভব হচ্ছে।

প্রযুক্তির মাধ্যমে স্টুডিওতে না গিয়েও ডিজিটাল চরিত্রের পোশাক, পরিবেশ, অঙ্গভঙ্গি ও সংলাপ পরিবর্তন করা যাচ্ছে। ফলে কনটেন্ট নির্মাতাদের কাছে বাস্তব অভিনেতার পাশাপাশি লাইসেন্স করা ডিজিটাল মুখও একটি বিকল্প হয়ে উঠছে।

তবে এই ব্যবস্থার সঙ্গে ব্যক্তিগত চেহারা বা মুখাবয়বের স্বত্ব, ব্যবহারের সীমা এবং চুক্তির শর্ত নিয়ে নতুন ধরনের প্রশ্নও তৈরি হচ্ছে। একজন ব্যক্তি তার চেহারা কোন ধরনের কনটেন্টে ব্যবহার করতে দেবেন এবং ভবিষ্যতে সেই ডিজিটাল অবয়ব কীভাবে ব্যবহৃত হবে—এসব বিষয় স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে বিনোদন ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির ধরন যেমন বদলাচ্ছে, তেমনি মানুষের ব্যক্তিগত চেহারাও নতুন ধরনের ডিজিটাল সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীনের এই প্রবণতা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও কতটা ছড়িয়ে পড়ে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে