×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পঞ্চম প্রজন্মের ব্যাংক

তিন মাসের হিসাব প্রকাশ, আমানত বৃদ্ধিতে বড় ব্যবধান

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ০৮:২২:৪০
তিন মাসের হিসাব প্রকাশ, আমানত বৃদ্ধিতে বড় ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমানত প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে পঞ্চম প্রজন্মের ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ব্যাংকিং সেক্টর আপডেট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে এ শ্রেণির ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ৩৮ দশমিক ১০ শতাংশ। একই সময়ে মার্চের তুলনায় এপ্রিল-জুন প্রান্তিকেও সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি করেছে এসব ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। মার্চ শেষে এ পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যাংক খাতে মোট আমানত বেড়েছে ২ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর ২০২৫ সালের জুনের তুলনায় আমানত বেড়েছে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে প্রতিষ্ঠার সময় অনুযায়ী কয়েকটি প্রজন্মে ভাগ করে দেখা হলে সবচেয়ে বেশি আমানত প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে পঞ্চম প্রজন্মের ব্যাংকে। এপ্রিল-জুন সময়ে মার্চের তুলনায় এ শ্রেণির ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। একই সময়ে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংকে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংকে ৩ শতাংশ আমানত বেড়েছে। প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকে এই প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ০ দশমিক ১০ শতাংশ।

বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে প্রতিষ্ঠার সময় অনুযায়ী পাঁচটি প্রজন্মে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকগুলো ১৯৭২ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত। এ শ্রেণিতে রয়েছে ১০টি ব্যাংক। দ্বিতীয় প্রজন্মের আটটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে।

তৃতীয় প্রজন্মের ১২টি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত নয়টি ব্যাংককে চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে ধরা হয়েছে। আর ২০১৩ সালের পর প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে পঞ্চম প্রজন্মের ব্যাংকের আওতায় রাখা হয়েছে।

জুন শেষে পঞ্চম প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। মার্চ শেষে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এ শ্রেণির ব্যাংকগুলোর আমানত বৃদ্ধির হার ৩৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আমানত জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। মার্চের তুলনায় এই শ্রেণির ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ।

দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আমানত এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে জুন শেষে ৩ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এক বছরের ব্যবধানে এ শ্রেণির ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ।

তৃতীয় প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আমানত তিন মাসে ৩ শতাংশ বেড়ে জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের জুনের তুলনায় এ শ্রেণির ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর আমানত মার্চের তুলনায় জুনে মাত্র ০ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৫ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে এক বছরের ব্যবধানে এ শ্রেণির ব্যাংকগুলোর আমানত বৃদ্ধির হার ছিল ১০ শতাংশ।

মালিকানা ও কার্যক্রমের ধরন অনুযায়ীও ব্যাংকগুলোর আমানত প্রবৃদ্ধিতে ভিন্নতা দেখা গেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও প্রচলিত ধারার বেসরকারি ব্যাংকগুলো আমানত বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানত মার্চে ছিল ৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। তিন মাসে এসব ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ।

দেশের সব বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিলিয়ে জুন শেষে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। মার্চের তুলনায় এসব ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর গত বছরের জুনের তুলনায় আমানত বৃদ্ধির হার ১১ শতাংশ।

বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর আমানতও বেড়েছে। মার্চের তুলনায় জুন শেষে এসব ব্যাংকের আমানত ২ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ শ্রেণির ব্যাংকগুলোর আমানত বেড়েছে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ।

সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে আমানত বাড়লেও এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোতে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। এ সময়ে এসব ব্যাংকের আমানত ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ কমে ৩ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। মার্চ শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানত ছিল ৩ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ শ্রেণির ব্যাংকের আমানত কমেছে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতেও পতন হয়েছে। মার্চে এসব ব্যাংকের আমানত ছিল ৮৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তিন মাসে আমানত কমেছে ১ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ০ দশমিক ১০ শতাংশ।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশের ব্যাংকিং খাতে আমানত বাড়লেও সব ধরনের ব্যাংকে একই প্রবণতা দেখা যায়নি। পঞ্চম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকগুলো আমানত প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ও বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আমানত কমেছে। ফলে ব্যাংকের প্রজন্ম, মালিকানা ও কার্যক্রমের ধরন অনুযায়ী আমানত প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে