×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোদিকে দূরে ঠেলে বাংলাদেশকে বুকে নিলেন ট্রাম্প

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯ ০০:০৯:২৪
মোদিকে দূরে ঠেলে বাংলাদেশকে বুকে নিলেন ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক পরিবর্তন নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পারস্পরিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে বৃহৎ শক্তিগুলোর কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। এমন প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উপস্থিতি এবং ভারতের ঐতিহ্যগত আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত দেড় দশকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও নেতৃত্বস্থানীয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবর্তনের ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক প্রভাব নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। যদিও ভারতের প্রভাব নাটকীয়ভাবে কমে গেছে—এমন সিদ্ধান্তকে সরাসরি প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শান্তিরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম, প্রতিরক্ষা বাণিজ্য এবং সামরিক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে দুই দেশ ‘Cooperation Afloat Readiness and Training’ বা CARAT-এর মতো সামরিক মহড়াতেও অংশ নিচ্ছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার মধ্যে প্রশিক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা-সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে। ২০২৩ সালের মার্কিন তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের নিরাপত্তা সংলাপে প্রতিরক্ষা বাণিজ্য, সামরিক সহযোগিতা, শান্তিরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে দক্ষিণ এশিয়ার সমীকরণ শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে ঘিরে নয়। চীনের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কও এ অঞ্চলের হিসাবকে জটিল করে তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চীন সম্পর্কেও উত্তেজনা কমানোর কিছু উদ্যোগ দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও পুনরায় বেড়েছে।

একই সময়ে ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফর এবং ভারতের সঙ্গে চীনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগও আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এতে বোঝা যায়, ভারত একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতা বজায় রাখছে, অন্যদিকে চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক পরিচালনার চেষ্টা করছে।

এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিকে একক কোনো দেশের প্রভাবের সরল হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, ভারতের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অবস্থান, চীনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উপস্থিতি এবং বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ—সব মিলিয়েই নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

তাই যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততাকে দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনকে সরাসরি ‘ভারতের জায়গা যুক্তরাষ্ট্র দখল করছে’—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বদলে বহুমুখী শক্তির প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখা বেশি তথ্যসম্মত। দক্ষিণ এশিয়ায় আগামী দিনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতা এবং ভারতের কৌশলগত অবস্থানের ওপর।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে