×
ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের পণ্য যাবে বিশ্বের ২০ নতুন সম্ভাবনাময় বাজারে!

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ২২:৫৪:৩৪
বাংলাদেশের পণ্য যাবে বিশ্বের ২০ নতুন সম্ভাবনাময় বাজারে!

নিজস্ব প্রতিবেদক: তৈরি পোশাকের ওপর বাংলাদেশের রপ্তানি নির্ভরতা কমিয়ে পণ্য ও বাজারের বৈচিত্র্য বাড়াতে বিশ্বের ২০টি দেশকে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। এসব দেশে বাংলাদেশের নতুন পণ্য ও সেবা রপ্তানির সুযোগ, বিদ্যমান বাধা এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে বাজারভিত্তিক কৌশল নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশল: ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য গন্তব্যে পণ্য ও বাজারের বৈচিত্র্য’ শীর্ষক কর্মশালায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এসব সম্ভাবনাময় বাজারের বিষয়ে তথ্য জানা গেছে।

সরকারের চিহ্নিত ২০টি দেশের তালিকায় রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, চীন, ভারত, কানাডা, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজি।

কর্মশালায় এসব দেশের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা প্রবেশের সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগী দেশের অবস্থান নিয়ে বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিটি বাজারের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে পৃথক কৌশল তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত রপ্তানি বহুমুখীকরণ কৌশলপত্র তৈরির পাশাপাশি বাজারভিত্তিক পৃথক কৌশলপত্রও প্রণয়ন করা হবে।

বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ অ্যাগ্রোপ্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা নিজেদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।

কর্মশালা শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সেবা খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যগুলোকে কেন্দ্র করে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের ভিত্তি আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। নতুন পণ্য ও নতুন বাজার তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে একটি বহুমুখী ও টেকসই রপ্তানি কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য এবং বাজার—দুই ক্ষেত্রের বৈচিত্র্যকরণকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্য ও সেবার রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের রপ্তানি কাঠামোকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান কর্মশালায় পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি সেবা রপ্তানির ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তার মতে, তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি এবং সক্ষমতাবর্ধক সেবা খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের বিকাশেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য ও বাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে