×
ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে এসে নিখোঁজ, দুই বছর পর বের হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ০৯:৩৩:৩৩
অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে এসে নিখোঁজ, দুই বছর পর বের হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি নারী রেহানা পারভীনকে হত্যার পর মরদেহ গুম করতে আশুলিয়ায় সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর সবজির চারা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর তদন্ত শেষে আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মামলার তদন্ত শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভীর হাসান খান এ অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আওলাদের দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইনকে আসামি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ অভিযোগপত্রটি দেখেছেন। আগামী ১৯ অক্টোবর এটি পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন রেহানা পারভীন। পরে ২৯ জুন দেশে ফেরেন তার স্বামী আওলাদ হোসাইন। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি এবং পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে রেহানাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর রেহানাকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়ায় আওলাদের বোন পাপিয়ার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এরপর আমজাদ রেহানার পা এবং কবীর দুই হাত চেপে ধরেন। পরে আওলাদ তার ওপর বসে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এতে রেহানার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

হত্যার পর মরদেহ গুম করার জন্য ওই রাতেই পাপিয়ার বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে গর্ত খুঁড়ে রেহানার মরদেহ পুঁতে রাখা হয় বলে তদন্তে বলা হয়েছে। ঘটনার কোনো চিহ্ন যাতে সহজে বোঝা না যায়, সে জন্য ওই জায়গায় সবজির চারা লাগানো হয়েছিল বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

রেহানা নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা আইরিন আক্তার অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ১২ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় রেহানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর মামলাটি হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলায় রূপান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাপিয়া, কবীর ও আমজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি রেহানার নাবালিকা মেয়েও তার বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর আওলাদ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। পরে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) তাকে ব্রিসবেন থেকে গ্রেপ্তার করে। বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে মামলায় নিজের নাম বাদ দেওয়া এবং তদন্ত প্রভাবিত করার জন্য ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া রেহানার অস্ট্রেলিয়ায় থাকা সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য ভুয়া মৃত্যু সনদ ব্যবহারের অভিযোগেও আওলাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আমজাদ ও কবীর কারাগারে রয়েছেন। অপরদিকে আওলাদের দুই বোন পাপিয়া ও মাকসুদা বর্তমানে জামিনে আছেন। আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রের তথ্য ও আসামিদের বক্তব্যের পাশাপাশি মামলার অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণও বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে