×
ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকায় ভারতের ‘স্পাই মাস্টারের’ গোপন সফর

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৮ ০৮:৩৭:৩৮
ঢাকায় ভারতের ‘স্পাই মাস্টারের’ গোপন সফর

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। এই শুভেচ্ছার মাত্র ৩৫ মিনিটের মাথায় নরেন্দ্র মোদী তার জবাবে তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বার্তা প্রদান করেন। এই ঘটনাপ্রবাহের রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত কুমার দোভালের আকস্মিক ঢাকা সফর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র অনুযায়ী, অজিত দোভাল গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছান এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। তার এই সফরটি ছিল খুবই গোপনীয় এবং কৌশলগত। ঢাকা বা নয়াদিল্লি—কোনো পক্ষ থেকেই এই সফরের বিষয়বস্তু বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যকার শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যকার অমিমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এই সফরটি আয়োজিত হয়েছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, আগামী নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জোরেশোরে কাজ করছেন। ভারতের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম দায়িত্ব নেওয়ার পর এই কূটনৈতিক আলোচনার গতি আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা আসেনি।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টি এখনো দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় এক অমীমাংসিত প্রশ্ন। তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরবেন কি না বা তাঁর বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অজিত দোভালের ঢাকা সফর কেবলই কোনো রুটিন বৈঠক নয়, বরং এটি দুই দেশের সম্পর্কের এই জটিল মোড়ে একটি ভারসাম্য আনার কৌশলগত প্রচেষ্টা হতে পারে।

পরিশেষে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার অমিমাংসিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির ওপরই নির্ভর করছে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং এ বিষয়ে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে দ্রুত কিছু নতুন পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখন বিশ্বমহল তাকিয়ে আছে ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশের পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে