×
ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৪১ বছর ধরে কেন বন্ধ বাংলাদেশের তেলের খনি?

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১১:১৬:০১
৪১ বছর ধরে কেন বন্ধ বাংলাদেশের তেলের খনি?

নিজস্ব প্রতিবেদক: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান তেল খনি নিয়ে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রহস্যের কোনো কিনারা হয়নি। দেশের নিজস্ব ভূখণ্ডে জ্বালানি তেলের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কেন এই খনি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র ছিল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

১৯৮৭ সালের দিকে ভূমিকম্প জরিপের সময় পঞ্চগড়ের শালবাহানে তেলের মজুদের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর ১৯৮৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই খনিটি উদ্বোধন করেন। ৮ হাজার ফুট গভীর থেকে তেল উত্তোলনের জন্য ফ্রান্সের 'ফরাসাল' (FARASAL) নামের একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহ তেল উত্তোলনের পরই রহস্যজনকভাবে খনির সব যন্ত্রপাতি সরিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং খনির মুখ সিমেন্ট ও কংক্রিট দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়।

১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এরশাদ সরকারের পতনের সাথে সাথে বিদেশি দাতাদের চাপ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে খনির কাজ স্থগিত করা হয়েছিল। কেউ কেউ মনে করেন, এরশাদ সরকার তখন ভারতের বাইরে আমেরিকা ও চীনের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছিল, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ ছিল।

শালবাহান খনির মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের জলপাইগুড়িতে একই ভূস্তর বা ‘হাইড্রোজেন’-এর উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে এবং সেখানে তেল উত্তোলনের কাজও চলছে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা প্রশ্ন তুলছেন—যদি একই ভূস্তর থেকে ওপারে তেল পাওয়া যায়, তবে এপারে কেন পাওয়া যাবে না? তারা মনে করেন, এটি নিছক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর পেছনে গভীর কোনো কূটনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক চাপ থাকতে পারে।

বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি তেলের জন্য সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশ প্রায় ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন জ্বালানি আমদানি করেছে, যার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ কোটি টাকা। আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের অভ্যন্তরীণ খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান জরুরি। নড়ওয়ে বা রাশিয়ার রোমাশিনস্কয়ের মতো পরিত্যক্ত তেলক্ষেত্র থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদনের উদাহরণ বিশ্বজুড়ে রয়েছে।

শালবাহানের স্থানীয়রা এখন সরকারের কাছে পুনরায় এই খনিটি আধুনিক প্রযুক্তিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দাবি জানাচ্ছেন। ৯০০ মিটার বা ৮ হাজার ফুট নিচে তেল থাকার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও খনি বন্ধ রাখা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।জ্বালানি নিরাপত্তা মানে কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং এটি স্বাধীনতার সাথে সরাসরি জড়িত। দেশের মাটির নিচে যদি তেলের ভাণ্ডার থেকেই থাকে, তবে তা উত্তোলন করে আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এখন সময়ের দাবি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে