×
ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেজর জাহিদের মৃত্যুর রাতের ঘটনা নিয়ে স্ত্রীর যে দাবি সামনে এলো

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১০:৪৭:৩২
মেজর জাহিদের মৃত্যুর রাতের ঘটনা নিয়ে স্ত্রীর যে দাবি সামনে এলো

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জাহিদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনা এবং তার পরিবারের পরবর্তী ভোগান্তি নিয়ে নতুন করে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বামীর মৃত্যুর ঘটনা, তাকে ও দুই সন্তানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা এবং স্বামীর মরদেহের শেষ ঠিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন। এসব বিষয়ে পরিবারের বক্তব্যের পাশাপাশি অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জাহিদের মৃত্যুকে বন্দুকযুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তার পরিবার এ বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রূপনগরের একটি ভাড়া বাসা থেকে মেজর জাহিদুল ইসলামকে তুলে নেওয়ার পর তিনি নিহত হন। সে সময় পুলিশ ঘটনাটিকে বন্দুকযুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করেছিল এবং তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগের কথা বলা হয়েছিল। তবে জাহিদের পরিবার পরবর্তীতে দাবি করে, ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ভিন্ন। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামীকে নিয়ে যাওয়ার রাতেই তাকেও দুই শিশুসন্তানসহ নিয়ে যাওয়া হয়। তার দাবি, তাদের ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশের একটি স্থানে রাখা হয়েছিল, যেটিকে তিনি ‘আয়নাঘর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সেখানে আট মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে তাকে দীর্ঘ সময় থাকতে হয়। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময় তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করা হয়েছিল এবং জেবুন্নাহারকে স্বামীর কথিত জঙ্গি সম্পৃক্ততা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জেবুন্নাহার অভিযোগ করেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল। তার দাবি, স্বামীকে জঙ্গি হিসেবে স্বীকার করার জন্য চাপ দেওয়া হতো এবং তা না করলে পরিবারের সদস্যদের পরিণতি নিয়েও ভয় দেখানো হয়েছিল। এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে বিচারিকভাবে প্রমাণিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জেবুন্নাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার ছয় বছর বয়সী মেয়েকেও একপর্যায়ে পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করা হয়। পরে ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আজিমপুরে একটি অভিযানের ঘটনায় শিশুটিকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে ওই ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে উপস্থাপন করা হয়েছিল। জেবুন্নাহারের দাবি, ঘটনাটি তার সন্তানদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব ফেলেছে এবং পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যম দেখলেও তারা অস্বস্তি ও আতঙ্ক অনুভব করত।

জেবুন্নাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর তাকে এবং তার আট মাস বয়সী শিশুকন্যাকে রাজধানীর আশকোনা এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর ডিবি কার্যালয়ে রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরিবারের দাবি, এরপর কয়েক বছর ধরে তাকে কারাগারে থাকতে হয়েছে। কারাগারে শিশুসন্তানকে সঙ্গে রাখার সময় বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে শিশুকে মশার কামড় থেকে রক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

জেবুন্নাহারের দাবি, কারাগারে থাকার সময় তাকে এমন একটি স্থানে রাখা হয়েছিল যেখানে পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তার আপত্তি ছিল। এসব অভিজ্ঞতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তার পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

মেজর জাহিদের মরদেহের অবস্থান নিয়েও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নের মুখে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর পর তার মরদেহ প্রায় আড়াই বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং পরে পরিবারের সদস্যরা সেটির সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় আবেদনও করা হয়েছে।

জাহিদের পরিবার তার মৃত্যুর ঘটনা, মরদেহের অবস্থান এবং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে জেবুন্নাহারের বক্তব্যে উঠে আসা আটক, জিজ্ঞাসাবাদ ও কারাবন্দিত্বের অভিযোগগুলোরও স্বাধীন তদন্তের দাবি রয়েছে।

মেজর জাহিদের মৃত্যুর ঘটনায় সে সময়কার সরকারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্ণনা এবং তার পরিবারের পরবর্তী অভিযোগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ফলে ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আদালতের প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ভিত্তি হতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে