×
ঢাকা, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন আহমাদুল্লাহ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ০৮:০১:৩৩
শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন আহমাদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদরাসায় শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের নিন্দা জানিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয় দফা প্রস্তাবও দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তবে এরপরও কেউ কেউ মনে করেন, মাদরাসার শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে আলেমরা যথেষ্ট সরব হন না। এমন প্রশ্নেরই জবাব দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এক শ্রোতা সরাসরি প্রশ্ন করেন, মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর ওপর গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা প্রায়ই শোনা গেলেও এসব ঘটনায় শায়খ আহমাদুল্লাহসহ আলেমদের অনেককে কেন প্রকাশ্যে কথা বলতে দেখা যায় না।

জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীর পরিচয় বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সম্পর্ককে সামনে এনে অপরাধের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তার মতে, অপরাধী মাদরাসার শিক্ষক, স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা অন্য কোনো পেশার মানুষ—পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে চূড়ান্ত অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করাও অন্যায়। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর অতিরিক্ত সহানুভূতি দেখিয়ে কাউকে দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগও থাকা উচিত নয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করাই অপরাধ প্রতিরোধের কার্যকর পথ।

মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তবে তিনি জোর দেন, শাস্তি অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে। তার মতে, অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে অপরাধীর পরিচয় বা পেশা বিবেচনা না করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।

প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও কথা বলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তার মতে, বর্তমানে সিসিটিভি, বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অন্যান্য তদন্তপদ্ধতির মাধ্যমে কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই করা তুলনামূলকভাবে দ্রুত সম্ভব। তাই কোনো শিক্ষক বা অন্য কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, মাদরাসা শিক্ষক হলেই কেউ অপরাধের ঊর্ধ্বে নন। ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাক কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধমুক্ত করে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রত্যেক মানুষের মতো ধর্মীয় শিক্ষকেরও মানবিক দুর্বলতা থাকতে পারে। তাই অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

শিশু ও নারীর প্রতি নির্যাতনের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর পরিচয় বা পোশাকের পরিবর্তে অপরাধের সত্যতা ও প্রমাণের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার বক্তব্য, অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় পোশাক বা পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ করলে তার কারণে ইসলাম, মুসলিম সমাজ বা আলেমদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

সবশেষে তিনি বলেন, অপরাধীকে কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শুধু পরস্পরকে দোষারোপ না করে দেশের বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো এবং অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে মত দেন তিনি।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর

উ
প
রে