×
ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৪০০ বছরেও বদলায়নি কাবা শরীফের চাবির মালিকানা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬ ১৯:২৬:০০
১৪০০ বছরেও বদলায়নি কাবা শরীফের চাবির মালিকানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বের বড় বড় সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন ঘটেছে, ক্ষমতা ও রাজমুকুট ধুলোয় মিশেছে, কিন্তু ১৪০০ বছরের বেশি সময় ধরে পবিত্র কাবা শরীফের চাবির অভিভাবকত্ব রয়ে গেছে এক অটুট ঐতিহ্যের ধারায়। ক্ষমতাধর সম্রাট বা বর্তমানের রাষ্ট্রপ্রধানরাও কাবা ঘরের চাবির মালিকানায় হাত দেওয়ার সাহস দেখাননি। এই অনন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নেপথ্যে রয়েছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র ঘোষণা ও নির্দেশনা।

ইতিহাস অনুযায়ী, অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের পর মহানবী (সা.) কাবার ভেতরে থাকা সব মূর্তি অপসারণ করে কাবাকে পবিত্র করেন। এরপর তিনি কাবার চাবিটি তৎকালীন চাবিরক্ষক উসমান বিন তালহা (রা.)-এর হাতে তুলে দেন এবং চাবিটি চিরদিনের জন্য তাদের বংশধরদের কাছে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। নবীজি (সা.) সেই সময় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন, "তোমরা এই চাবি চিরদিনের জন্য নিজেদের কাছে রাখো। কোনো জালেম বা অত্যাচারী ছাড়া অন্য কেউ তোমাদের কাছ থেকে এটি ছিনিয়ে নিতে পারবে না।" নবীজির সেই পবিত্র বাণীর কারণেই আজ পর্যন্ত কেউ এই চাবি দখল করার সাহস দেখায়নি।

নবীজির ঘোষণা অনুযায়ী, আজ পর্যন্ত এই চাবির হেফাজতের দায়িত্বে রয়েছে বনু শায়বাহ বা আল-শায়বী পরিবার। বংশ পরম্পরায় এই পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যরা পবিত্র কাবার চাবি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারা অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে এই পবিত্র দায়িত্বটি পালন করছেন।

বর্তমানে কোনো ভিআইপি অতিথি বা সৌদি বাদশা নিজে যদি কাবার ভেতরে প্রবেশ করতে চান, তবে তাদের প্রটোকল অনুযায়ী আল-শায়বী পরিবারের প্রধানকে সবিনয়ে ডেকে আনা হয়। সৌদি আরবের বর্তমান পরাক্রমশালী বাদশাহ মোহাম্মদ বিন সালমানও কাবা ঘরের সামনে এলে তিনি একজন সাধারণ সেবকের মতোই আচরণ করেন। কাবার দরজার চাবি খোলার অধিকার কেবল এই বংশের প্রধানেরই রয়েছে। তিনি নিজ হাতে তালা খোলেন এবং দর্শনার্থীদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ করে দেন। দায়িত্ব শেষ হলে তিনি পুনরায় তালাবদ্ধ করে চাবিটি নিজেদের কাছে নিয়ে যান।

কাবা শরীফের চাবির এই অভিভাবকত্ব কেবল একটি বংশীয় দায়িত্ব নয়, বরং এটি ইসলামের ইতিহাসের এক অমূল্য নির্দেশনা। যেখানে যুগে যুগে বড় বড় সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে, সেখানে মক্কার এক সাধারণ পরিবারের হাতের এই চাবিটি প্রমাণ করে মহানবীর (সা.) বাণীর চিরন্তন সত্যতা। বিশ্বের প্রভাবশালী রাজন্যবর্গও কাবা ঘরের সামনে এসে নিজের ক্ষমতা ভুলে আল্লাহর দরবারে মাথা নিচু করে দাঁড়ান, যা ইসলামের সাম্য ও পবিত্রতার অনন্য প্রতীক।বর্তমানে আল-শায়বী পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এই ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নবীজির (সা.) সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা আজও পৃথিবীতে সংরক্ষিত রয়েছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর

উ
প
রে