×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তারেক রহমানের 'আই হ্যাভ আ প্ল্যান'-এর ম্যাজিক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৮:৫১:১৯
তারেক রহমানের 'আই হ্যাভ আ প্ল্যান'-এর ম্যাজিক

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকার যানজট কমানো এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প। প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্প চালু হলে সাভার, আশুলিয়া, ইপিজেড ও নবীনগরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের ঢাকায় যাতায়াত সহজ ও দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির প্রায় ৬৭ দশমিক ৫ শতাংশ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরই মধ্যে ধৌরমোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি পৃথক সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকল্পের কিছু অংশে যান চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের আগে বাইপাইল থেকে সিপক পর্যন্ত বাকি অংশও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তবে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে নির্ধারিত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

বর্তমানে সাভার, আশুলিয়া ও ইপিজেড এলাকার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগে দীর্ঘ যানজট একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল থেকে রাজধানী এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের দিকে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে অতিরিক্ত সময় লাগে।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে ২৪ কিলোমিটার পথ প্রায় ২০ মিনিট এবং ৪৪ কিলোমিটার পথ প্রায় ৩৫ মিনিটে অতিক্রম করা সম্ভব হতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহন খাতও সুবিধা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সঙ্গে বিদ্যমান ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ। এর মাধ্যমে সাভার, আশুলিয়া, ইপিজেড ও নবীনগর এলাকার শিল্পকারখানা থেকে উৎপাদিত পণ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তুলনামূলক দ্রুত পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের পণ্যবাহী কভার্ড ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনকে বর্তমানে যেসব সড়কে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়, সেসব চাপ কিছুটা কমতে পারে। এতে পরিবহনের সময় ও জ্বালানি ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে জিডিপিতে প্রায় শূন্য দশমিক ২১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পণ্য পরিবহনে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবহন ব্যয় কমতে পারে। বিশেষ করে পোশাকশিল্প ও অন্যান্য রপ্তানিমুখী খাতের জন্য দ্রুত পণ্য পরিবহন সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রকল্পটির শুরুতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। পরে বিভিন্ন কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৭ হাজার ৮৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৯ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনভিত্তিক এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নে সহায়তা করছে। শুরুতে ভূমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং নকশা পরিবর্তনসহ বেশ কিছু জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সমস্যার বড় একটি অংশ সমাধান হওয়ায় বর্তমানে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে।

প্রকল্পটির পরিকল্পনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও রাখা হয়েছে। এর ফলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিমানবন্দরমুখী যাতায়াত আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে মেট্রোরেল ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। সড়ক, বিমানবন্দর ও গণপরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ তৈরি হলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শুধু একটি নতুন সড়ক অবকাঠামো নয়; সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল, রাজধানী এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকল্পের বাকি কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে যাতায়াতের সময় কমানো, পণ্য পরিবহন সহজ করা এবং শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে