×
ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামান্য ভুলেই আটকে যেতে পারে নতুন পে স্কেলের বেতন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১২:৪১:১৮
সামান্য ভুলেই আটকে যেতে পারে নতুন পে স্কেলের বেতন

নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম জাতীয় বেতন স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের সঠিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ কিংবা নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে তথ্যের অমিল থাকলে অনলাইন পে ফিক্সেশনের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে নতুন বেতন নির্ধারণের আগে এসব তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে আইবাস++ সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করতে হবে। এরপর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।

বিদেশে অবস্থানরত সরকারি কর্মচারীদের জন্যও রাখা হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। তাদের ক্ষেত্রে আইবাস++-এ নিবন্ধিত ই-মেইল ঠিকানায় ওটিপি পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

কোনো সরকারি কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে পে ফিক্সেশনের আগে তাকে এনআইডির জন্য নিবন্ধন করতে হবে। একই সঙ্গে চাকরির রেকর্ডে থাকা জন্মতারিখ এবং এনআইডিতে থাকা জন্মতারিখের মধ্যে অমিল থাকলে আগে এনআইডির তথ্য সংশোধন করতে হবে।

অর্থাৎ, নতুন বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে সরকারি কর্মচারীদের নিজেদের এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ এবং নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর সঠিক আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। তথ্যের সামান্য অসঙ্গতিও অনলাইন যাচাইয়ের সময় সমস্যার কারণ হতে পারে।

গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পে ফিক্সেশনের প্রক্রিয়া কিছুটা আলাদা। তারা আইবাস++-এর নিজস্ব ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করবেন। এরপর নির্ধারিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে পে ফিক্সেশনের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

তথ্য পূরণ করার পর সেটি চূড়ান্তভাবে সাবমিট করার আগেই সিস্টেমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নতুন নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন প্রদর্শিত হবে। তথ্য সঠিকভাবে সাবমিট হলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি এসএমএস পাঠানো হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের জন্য ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার বা ডিডিওর কাছে যাবে।

ডিডিও প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে বেতন নির্ধারণী বিবরণী সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাবেন। সেখানে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অনলাইনে তথ্য যাচাই করে অনুমোদন দিলে সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে।

নতুন অনলাইন ব্যবস্থায় পে ফিক্সেশনের পুরো প্রক্রিয়ায় আগের মতো ম্যানুয়াল স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না। তবে সার্ভিস বইয়ে ভেরিফিকেশন নম্বর এবং নির্ধারিত বেতন লিপিবদ্ধ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে স্বাক্ষর করতে হবে।গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অডিট রেজিস্টারের মানি কলামেও নির্ধারিত বেতন এবং ভেরিফিকেশন নম্বর লিপিবদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন দ্রুত, স্বচ্ছ এবং অভিন্ন নিয়মে নির্ধারণ করতেই অনলাইন পে ফিক্সেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এতে কাগজপত্রের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়াও সহজ হবে।

তবে ব্যক্তিগত তথ্যের ভুল বা একাধিক নথিতে তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকলে যাচাইয়ের সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংশোধন করার পর পে ফিক্সেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হতে পারে।

নতুন বেতন নির্ধারণের আগে তাই সরকারি কর্মচারীদের নিজেদের এনআইডি, জন্মতারিখ এবং নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের তথ্য মিলিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন পে ফিক্সেশনসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা আইবাস++ লগইন পেজ, অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ওয়েবসাইট এবং নির্ধারিত পে ফিক্সেশন পোর্টালে পাওয়া যাবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে