×
ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৪০০ কোটির পিয়ন জাহাঙ্গীরের সাম্রাজ্য এখন যার হাতে

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১০:৩২:১৫
৪০০ কোটির পিয়ন জাহাঙ্গীরের সাম্রাজ্য এখন যার হাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একসময়কার ব্যক্তিগত স্টাফ মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিপুল সম্পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শেখ হাসিনা নিজেই তাঁর বাসার সাবেক এক কর্মীর বিপুল সম্পদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেছিলেন, ওই ব্যক্তি ৪০০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই ব্যক্তি হিসেবে জাহাঙ্গীর আলমের নাম উঠে আসে।

জাহাঙ্গীর আলম ‘পানি জাহাঙ্গীর’ নামেও পরিচিত ছিলেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বিরোধী দলে থাকার সময় তিনি সুধা সদনে ব্যক্তিগত স্টাফ হিসেবে কাজ করতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার জন্য খাবার পানি বহন করার কারণে তাঁর এই পরিচিতি হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন।

তবে তাঁর সম্পদ নিয়ে প্রশ্নের বড় কারণ হলো—একজন ব্যক্তিগত কর্মচারীর আয় ও জীবনযাত্রার সঙ্গে বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য কতটা ছিল। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, জাহাঙ্গীর আলম নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন তদবির ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সতর্ক করে জানিয়েছিল, জাহাঙ্গীরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি নিজেকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করছিলেন।

জাহাঙ্গীরের সম্পদের মধ্যে রাজধানী ঢাকা ও নোয়াখালীতে জমি, ভবনসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে মিরপুরে হাজার কোটি টাকার সম্পদ, ২০-২৫টি ফ্ল্যাট বা নির্দিষ্ট পরিমাণ জমির মালিকানার মতো যেসব তথ্য বিভিন্ন মহলে প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ সরকারি দলিল বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হিসাব প্রকাশ্যে না থাকায় এগুলোকে আপাতত অভিযোগ ও দাবির পর্যায়েই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তাঁর সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও আর্থিক তদন্ত সংস্থাগুলোও বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। ২০২৪ সালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানায়। একই সময়ে জাহাঙ্গীর, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ৩০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে আরও আইনগত পদক্ষেপের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আদালত জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা জানায়। এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে তাঁর সম্পদের উৎস, আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তদন্তের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে জাহাঙ্গীরের প্রভাব ও সম্পদ নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর সবকটির স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, সম্পত্তির দলিল, ভূমি রেকর্ড, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পর্যালোচনা করলেই তাঁর প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ ও উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।

সরকার পরিবর্তনের পর তাঁর সম্পদ আত্মীয়স্বজনের নামে হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন দাবিও বিভিন্ন মহলে রয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিল, রেজিস্ট্রি তথ্য ও সরকারি রেকর্ড যাচাই করা জরুরি। শুধু স্থানীয়দের বক্তব্য বা অনানুষ্ঠানিক সূত্রের ভিত্তিতে সম্পদের মালিকানা বা হস্তান্তরকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সব মিলিয়ে জাহাঙ্গীর আলমের সম্পদের বিষয়টি কেবল ৪০০ কোটি টাকার দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাঁর সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের উৎস, সম্পত্তির মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেনের বৈধতা—এসব প্রশ্নই এখন গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে সিআইডির অনুসন্ধান ও আর্থিক হিসাব স্থগিতের মতো পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এবং সরকারি নথি প্রকাশিত হলে তাঁর সম্পদের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে