×
ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১০:১৯:৪১
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থের ব্যবস্থাপনায় নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। সংগৃহীত অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয়ের জন্য ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যবহার করা হবে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য জানান।

জেলা প্রশাসক জানান, দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থের ৩৫ শতাংশ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। ওই ব্যাংক হিসাব সিলেটের জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। আর অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ অর্থ মাজারের নিয়মিত পরিচালন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় করা হবে।

অর্থ গণনা ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাজার কমিটির পক্ষ থেকে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, এই পদে একজন অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন অথবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।

মাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হবে। জেলা প্রশাসক এই কমিটির আহ্বায়ক থাকবেন। কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদের একজন করে প্রতিনিধি এবং পুলিশ সুপার থাকবেন। মাজারের মোতোয়াল্লি কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যানেজার কমিটির সাচিবিক কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।

নতুন কমিটি মাজারের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। এর মাধ্যমে মাজারের আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মাজারের দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গত ২৩ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সুপারিশ দিতে বলা হয়েছিল। প্রায় আড়াই মাস পর কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

এর আগে দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সিলেটে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। গত ১৮ জুন মাজারের পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দানের অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়।

এরপর দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা করা হয়। গত ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স থেকে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত করার পর ওই পর্যায়ে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

পরবর্তী সময়ে ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। এর সঙ্গে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং স্বর্ণ-রূপার সামগ্রীও ছিল। ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া যায়। এসব সময়েও নগদ অর্থের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণ-রূপার সামগ্রী পাওয়া যায়।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে কেউ কেউ স্বচ্ছতা আনার পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও অন্য পক্ষ থেকে একতরফা ব্যবস্থাপনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এর মধ্যেই ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রতিদিন দানবাক্সের অর্থ গণনা, নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা এবং নির্ধারিত খাতে ব্যয়ের মাধ্যমে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে। একই সঙ্গে মাজারের উন্নয়ন ও দৈনন্দিন পরিচালনার জন্য দানের অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হবে, সেটিও নির্ধারিত থাকবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে