×
ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের ফেলে আসা নীতি দিয়ে বিশ্ব কাঁপাচ্ছে ভারত 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ০৯:৫২:৪৩
বাংলাদেশের ফেলে আসা নীতি দিয়ে বিশ্ব কাঁপাচ্ছে ভারত 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একসময় যে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি—সবার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা—গুরুত্ব পেয়েছিল, সেই ধরনের কৌশল এখন ভারতও আরও সক্রিয়ভাবে কাজে লাগাচ্ছে । যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে ভারত নিজের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ এগিয়ে নিচ্ছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি যোগাযোগ—সবকিছু একসঙ্গে পরিচালনা করছে ভারত। এই বহুমুখী কূটনীতিকে অনেক বিশ্লেষক ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা ‘মাল্টিঅ্যালাইনমেন্ট’ হিসেবে দেখছেন।

বাংলাদেশের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন ধরনের অগ্রাধিকার তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের ‘ভারসাম্যের কূটনীতি’র পরিবর্তে এখন জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্র হলেও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখন সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের সমীকরণেও পরিবর্তন এসেছে এবং ঢাকা এখন অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর মাধ্যমে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিসর আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতায় জাপানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং বিভিন্ন অবকাঠামো ও নদীভিত্তিক প্রকল্পে দেশটির সম্পৃক্ততা রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে প্রবাসী কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের কারণে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত ও মিয়ানমার—দুই প্রতিবেশীই গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট এবং সীমান্ত পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, সীমান্ত, পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়েও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমুদ্রবন্দর, রেলপথ ও অন্যান্য আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাণিজ্যিক ও কৌশলগত পথ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজ দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ কোনো একটি দেশ বা পরাশক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের কৌশলগত পরিসর বাড়াতে পারে। বাংলাদেশের জন্য জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে ‘ভারসাম্যের কূটনীতি’ থেকে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে পুরোপুরি পরিবর্তন ঘটেছে কিংবা ভারত বাংলাদেশের ওপর আগের মতো কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না—এ ধরনের বক্তব্য মূলত ভিডিওতে উপস্থাপিত বিশ্লেষণ ও মতামতের অংশ। এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে বিবেচনা করতে হলে সরকারি নীতি, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ আরও তথ্য দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে নিজের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে সামনে রেখে বহুমুখী আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। অর্থাৎ কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিবর্তে ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট করার বিষয়টিই এতে তুলে ধরা হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে