×
ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফারাক্কার নিচে বাংলাদেশের ‘পানির চাল’!

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ০৬:৪২:২৫
ফারাক্কার নিচে বাংলাদেশের ‘পানির চাল’!

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর অবশেষে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প 'পদ্মা ব্যারেজ'। পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলবায়ু ও সেচ সংকট নিরসনে সরকার হাতে নিয়েছে এই মেগা প্রকল্প, যার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে রাজবাড়ীর পাংশায়।

পদ্মা নদীর ওপর প্রায় ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারেজ নির্মাণে প্রথম ধাপে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪,৪৯৭ কোটি টাকা, যা সার্বিকভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকতে পারে। শুধু পানি আটকে রাখাই নয়, বরং নদীর পানির সুষম ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে—সংরক্ষণ করা যাবে প্রায় ২.৯ বিলিয়ন ঘনমিটার পানি, সেচের আওতায় আসবে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমি, উৎপাদিত হবে ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

শুধু কৃষি নয়, এই প্রকল্পের প্রভাব পড়বে মৎস্য চাষ, নৌ-পরিবহন এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশেও। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি সফল হলে দেশের প্রায় ২৬টি জেলার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৭ শতাংশের সমান — অর্থাৎ প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের বেশি বাংলাদেশি এই প্রকল্পের সুফল পাবেন।

পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে ভূ-রাজনৈতিক দিকটিও। যেহেতু গঙ্গা ও পদ্মার পানি নিয়ন্ত্রণ মূলত ফরাক্কা ব্যারেজের মাধ্যমে ভারতের হাতে, তাই বাংলাদেশের এই স্বতন্ত্র উদ্যোগকে ভারত প্রতিবেশী সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সরকার দেশের স্বার্থে নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নদী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবাদীদের মতে, প্রকল্পটির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি নদীর তলদেশে পলি জমাসহ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নদীর পানিপ্রবাহের ওপর কোনো একক নিয়ন্ত্রণ না রেখে ভারতের সঙ্গে সমন্বিত নদী কমিশনের মাধ্যমে তথ্য বিনিময় ও নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা ব্যারেজ কেবল একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প নয় — এটি বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হয়ে উঠতে পারে। সরকার যদি এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে তা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র সম্পূর্ণভাবে বদলে দিতে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে