×
ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা দক্ষিণে ৩ হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থী, কঠিন সমীকরণে বিএনপি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ০৯:৪৯:২০
ঢাকা দক্ষিণে ৩ হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থী, কঠিন সমীকরণে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং ভোটারদের কাছে দলের অবস্থান তুলে ধরতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরই মধ্যে বিএনপির মধ্যেও নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতা বাড়ছে। দলটি সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার চেষ্টা করছে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়ায় দলের ভেতরে এক ধরনের অপেক্ষা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নাম নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত কোন দিকে যায়, সেটিই এখন রাজনৈতিক মহলের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুন নবী খান সোহেলসহ স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতার নাম উঠে আসছে। তবে দলীয় পর্যায়ের আলোচনায় ইশরাক হোসেনের নামও তুলনামূলকভাবে জোরালো বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। তার পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় এবং প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ককে কেউ কেউ সম্ভাব্য প্রার্থিতা নির্ধারণে একটি বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, দলের ভেতরে একটি অংশ মনে করে, শুধু পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের কাছে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ফলে ইশরাক হোসেনের নামকে ঘিরেও দলের অভ্যন্তরে নানা ধরনের মতামত রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক আব্দুল সালামের নামও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচনায় রয়েছে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা এবং সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে তার সরাসরি অভিজ্ঞতা থাকায় কেউ কেউ তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন পাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে একদিকে দলীয় প্রার্থী বাছাই এবং অন্যদিকে প্রশাসককে ঘিরে চলমান আলোচনা—দুই বিষয় মিলিয়ে ঢাকা দক্ষিণের নির্বাচনী সমীকরণ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বাড়লেও বিএনপির নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে এখনো চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা ধরনের গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দল শেষ পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেবে। আবার আরেকটি অংশের মতে, ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিটি নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগও বড় ভূমিকা রাখবে। ফলে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচন নয়, এটি রাজধানীর রাজনৈতিক শক্তিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি নির্বাচনী পরিবেশকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। দলটির নেতারা অবশ্য দাবি করে আসছেন, কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি বা রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা দিয়ে তাদের মাঠ থেকে সরিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাদের বক্তব্য, জনগণের সমর্থন নিয়ে তারা নির্বাচনী রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চান। তবে এসব রাজনৈতিক অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠে বাস্তব প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা তৈরি হয়, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ঢাকা দক্ষিণের নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় এবং ভোটারদের মনস্তত্ত্ব অন্যতম। বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হলেও যদি মাঠপর্যায়ে সংগঠন দুর্বল থাকে, তাহলে ভোটের মাঠে তার প্রভাব কমে যেতে পারে। আবার তুলনামূলকভাবে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য কোনো প্রার্থী শক্তিশালী সংগঠন না থাকলেও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে ভালো ফল করতে পারেন। তাই বিএনপির জন্য প্রার্থী নির্বাচনের সিদ্ধান্তটি শুধু দলীয় মনোনয়নের বিষয় নয়; এটি নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফলের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক মাঠে ইতোমধ্যে নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় একাধিক নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত কে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ইশরাক হোসেন, হাবিবুন নবী খান সোহেলসহ আলোচনায় থাকা অন্যান্য নেতাদের মধ্যে দল কাকে বেছে নেয় এবং নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তিগুলো কী কৌশল নেয়, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি। প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পরই নির্বাচনী প্রচার, সাংগঠনিক তৎপরতা ও ভোটের সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন প্রার্থীকে বেছে নেন, সেটিই নির্ধারণ করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে