×
ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেনজেনের পর এবার এক ভিসায় মিলবে ৬ দেশ ভ্রমণের সুযোগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ০৭:৫২:১২
শেনজেনের পর এবার এক ভিসায় মিলবে ৬ দেশ ভ্রমণের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে উপসাগরীয় অঞ্চলে চালু হতে যাচ্ছে একক পর্যটন ভিসা ব্যবস্থা। প্রস্তাবিত এই ভিসার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’। এটি চালু হলে একটি ভিসা নিয়েই উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির ছয় সদস্য দেশ—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত—ভ্রমণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে পর্যটকদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি সমন্বিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। ইউরোপের শেনজেন অঞ্চলের মতো একটি ভিসার আওতায় একাধিক দেশে ভ্রমণের সুযোগ পর্যটকদের কাছে জিসিসি অঞ্চলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

‘খালিজ টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে জিসিসির মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আলবুদাইউই দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই একক পর্যটন ভিসা চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও প্রস্তুতির কাজ চলছে। তবে ঠিক কবে থেকে ভিসাটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। আবেদন পদ্ধতি, ভিসা ফি, সর্বোচ্চ কতদিন অবস্থান করা যাবে এবং কোন কোন দেশের নাগরিক এই সুবিধা পাবেন—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশনা এখনো প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

বর্তমানে জিসিসিভুক্ত ছয়টি দেশে ভ্রমণ করতে গেলে অনেক বিদেশি নাগরিককে দেশভেদে পৃথক ভিসা বা অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হয়। এতে পর্যটকদের অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রস্তুত করা, আলাদা আবেদন করা এবং একাধিকবার ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। নতুন একক ভিসা ব্যবস্থা চালু হলে এই জটিলতা অনেকটাই কমে আসতে পারে। একটি অনুমতিপত্রের মাধ্যমে পর্যটকরা সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত—এই ছয় দেশে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। ফলে পর্যটন পরিকল্পনা করা আরও সহজ হবে এবং একই সফরে একাধিক দেশের বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হবে।

‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ছয়টি দেশকে আলাদা আলাদা গন্তব্য হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত পর্যটন অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। উপসাগরীয় দেশগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটন, বিনোদন, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক পর্যটন অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আধুনিক নগরজীবন ও স্থাপত্য, সৌদি আরবের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান, কাতারের আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো, ওমানের পাহাড়-সমুদ্র ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বাহরাইনের ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং কুয়েতের নগরজীবন—সব মিলিয়ে একই ভ্রমণসূচিতে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবিত এই ভিসা ব্যবস্থা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে দেশভেদে আলাদা ভিসা, কাগজপত্র ও সময় ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়। একটি সমন্বিত ভিসা চালু হলে পর্যটকদের সেই প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যারা একই সফরে একাধিক উপসাগরীয় দেশ ঘুরে দেখতে চান, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা সময় ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে পারে। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসাটি কী শর্তে প্রযোজ্য হবে এবং আবেদন করতে কী ধরনের যোগ্যতা প্রয়োজন হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, জিসিসির একক পর্যটন ভিসার পরিকল্পনা শুধু পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করার উদ্যোগ নয়; এর পেছনে বৃহত্তর অর্থনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে তেল ও গ্যাসনির্ভর অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে বহুমুখী অর্থনীতির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পর্যটন, ব্যবসা, বিনোদন, আতিথেয়তা, পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একক পর্যটন ভিসা চালু হলে ছয় দেশের মধ্যে পর্যটকদের চলাচল বাড়ার পাশাপাশি হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, বিনোদন ও অন্যান্য সেবা খাতে ব্যবসার সুযোগও বাড়তে পারে।

যদিও একক ভিসা চালুর প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে, তবে এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো রয়েছে। ভিসার আবেদন কোথা থেকে করতে হবে, অনলাইনে আবেদন করা যাবে কি না, আবেদন ফি কত হবে, ভিসার মেয়াদ কতদিন থাকবে, একজন পর্যটক সর্বোচ্চ কতদিন জিসিসি অঞ্চলে অবস্থান করতে পারবেন এবং কোন দেশের নাগরিকদের জন্য কী ধরনের শর্ত প্রযোজ্য হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিয়ম ও নির্দেশনা প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাই আপাতত এটিকে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেনজেন ব্যবস্থার মতো একটি আঞ্চলিক পর্যটন ভিসা সফলভাবে চালু ও বাস্তবায়ন করা গেলে জিসিসি অঞ্চল আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে। একটি ভিসার মাধ্যমে ছয়টি দেশে ভ্রমণের সুযোগ পর্যটকদের জন্য যেমন আকর্ষণীয় হবে, তেমনি জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও পর্যটন সহযোগিতাও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপ, এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের পর্যটকদের জন্য একই সফরে একাধিক উপসাগরীয় দেশ ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাতে নতুন গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবে কবে কার্যকর হবে এবং ভিসার চূড়ান্ত নিয়মকানুন কী হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর



রে