×
ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর নতুন নিয়মে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ০৭:৩১:১৯
প্রধানমন্ত্রীর নতুন নিয়মে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। সরকারি দপ্তরগুলোতে নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দাপ্তরিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং জনগণের সেবা প্রদানে সময়ক্ষেপণ কমানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নিজের কর্মপদ্ধতিতেও সময়ানুবর্তিতার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে সচিবালয়ে অফিসে উপস্থিত হওয়া এবং দাপ্তরিক সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালনের একটি বার্তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সময়ের প্রতি এই গুরুত্ব প্রশাসনের অন্যান্য স্তরেও কর্মনিষ্ঠা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে দ্রুততার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি কর্মকাণ্ডে অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর ও বাহুল্য কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের সময় অতিরিক্ত গাড়িবহর, অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদর্শন কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করার বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বজায় রেখেই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার এই নীতি প্রশাসনের প্রচলিত সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চলাচলের সময় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজট সৃষ্টি হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা বজায় রেখেও কীভাবে নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের এই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রচলিত কাগজের হাজিরা ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে কোনো কর্মকর্তা কখন অফিসে প্রবেশ করছেন এবং কখন বের হচ্ছেন, তার একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি করা সম্ভব। এতে কর্মঘণ্টায় অনুপস্থিত থাকা, নির্ধারিত সময়ের আগে অফিস ত্যাগ করা কিংবা দায়িত্ব পালনে গাফিলতির মতো বিষয়গুলো শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নেও এ ধরনের তথ্য সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু ডিজিটাল হাজিরা চালু করলেই প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না; এর পাশাপাশি কর্মকর্তাদের কাজের মান, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি এবং জনগণকে দেওয়া সেবার মানও নিয়মিত মূল্যায়নের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রাতিষ্ঠানিকতা ও পেশাদারিত্ব বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি দপ্তরে ব্যক্তিনির্ভরতার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠান ও বিধিবিধানকে প্রাধান্য দেওয়ার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা হলে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা বাড়তে পারে। দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে দায়িত্ব ও পদমর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেশাদার আচরণকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে মূল বার্তা হচ্ছে—সরকারি পদ কোনো ব্যক্তিগত ক্ষমতার প্রতীক নয়; এটি জনগণের সেবা ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের একটি মাধ্যম। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি, নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি প্রশাসনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা স্পষ্ট থাকা, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আস্থা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি কমানো এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য শুধু কর্মকর্তাদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা নয়; বরং জনগণ যেন দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছভাবে সরকারি সেবা পায়, সেটিই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সরকারি কাজের সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে নিয়ম মেনে চলার উদাহরণ তৈরি হলে তা প্রশাসনের অন্যান্য স্তরেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে সেগুলো কতটা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একই নিয়ম কার্যকর করা যাচ্ছে কি না, তার ওপর। প্রশাসনের কর্মসংস্কৃতিতে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে সময়ানুবর্তিতার পাশাপাশি দক্ষতা, সততা, দায়িত্বশীলতা ও জনসেবার মান—সবগুলো বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার এসব উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা বাড়ানো এবং সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে