×
ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কেউ জাহান্নামের ভয়ে ইবাদত করলে কবুল হবে? 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ২০:২৮:২০
কেউ জাহান্নামের ভয়ে ইবাদত করলে কবুল হবে? 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইবাদত কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু ভয়, শুধু আশা কিংবা শুধু ভালোবাসা—কোনোটিকেই এককভাবে যথেষ্ট মনে করা হয় না। প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার আলোচনায় বলা হয়েছে, একজন মুমিনের ইবাদতের মধ্যে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, ভয় ও আশা—এই তিনটি বিষয়ই থাকা প্রয়োজন।

আলোচনায় আল্লাহর প্রতি ভালোবাসাকে ইবাদতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একজন বান্দা আল্লাহকে ভালোবাসবে, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাইবে এবং তাঁর নৈকট্য লাভের আকাঙ্ক্ষা রাখবে—এটাই ইবাদতের প্রাণ।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, জাহান্নামের ভয় বা আল্লাহর শাস্তির আশঙ্কায় ইবাদত করলে তা মূল্যহীন হয়ে যাবে। বরং ভয়ও একজন মুমিনকে গুনাহ থেকে দূরে রাখতে এবং ইবাদতে মনোযোগী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আলোচনায় একটি সুন্দর উদাহরণ দেওয়া হয়েছে—ভালোবাসা হলো ইবাদতের মূল শরীর, আর ভয় ও আশা হলো দুটি ডানা। অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা যেমন ইবাদতের ভিত্তি তৈরি করে, তেমনি তাঁর শাস্তির ভয় এবং রহমতের আশা একজন মানুষকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে ইবাদতের পথে রাখে।

একজন মুমিন আল্লাহর রহমতের আশা করবেন, একই সঙ্গে তাঁর শাস্তিকে ভয় করবেন। ফলে তিনি যেমন হতাশ হয়ে পড়বেন না, তেমনি আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে উদাসীনও হবেন না।

আলোচনায় সতর্ক করা হয়েছে, ইবাদতের ক্ষেত্রে একদিকে অতিরিক্ত ভয় এবং অন্যদিকে অতিরিক্ত আশা—দুটিই ভারসাম্যহীনতার কারণ হতে পারে। শুধু ভয়কে কেন্দ্র করে ধর্মীয় জীবন পরিচালনা করলে মানুষের মধ্যে কঠোরতা ও চরমপন্থী মানসিকতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার শুধু আল্লাহর রহমতের আশায় থাকলে গুনাহ ও দায়িত্বের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তাই একজন মুমিনের উচিত আল্লাহকে ভালোবাসার পাশাপাশি তাঁর শাস্তিকে ভয় করা এবং তাঁর রহমতের আশা রাখা।

মূল বক্তব্য অনুযায়ী, জাহান্নামের ভয় ইবাদতের একটি বৈধ প্রেরণা। তবে একজন মুমিনের ইবাদত শুধু ভয়কেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর রহমতের আশার সঙ্গে সেই ভয়কে যুক্ত করতে হবে।

অর্থাৎ কেউ যদি জাহান্নামের ভয়েও নামাজ পড়ে, আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বাঁচে এবং ইবাদত করে, তাহলে ভয় নিজেই ইবাদতের বিরোধী কোনো বিষয় নয়। বরং পরিপূর্ণতার জন্য তার অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা ও রহমতের আশাও থাকা উচিত।

সবশেষে আলোচনার মূল শিক্ষা হলো—একজন মুমিন আল্লাহকে ভালোবাসবেন, তাঁর শাস্তিকে ভয় করবেন এবং তাঁর রহমতের আশা করবেন। এই তিনটির ভারসাম্যই ইবাদতকে পরিপূর্ণতার দিকে নিয়ে যায়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে