×
ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিও হিসাব নিয়ে অভিযোগ, ব্যবস্থা নিতে বিএসইসিকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ০৯:১৫:৩৭
বিও হিসাব নিয়ে অভিযোগ, ব্যবস্থা নিতে বিএসইসিকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়াই শেয়ার কেনাবেচা, মার্জিন হিসাবে নন-মার্জিন শেয়ার কেনা এবং বিও হিসাবে জমা অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজের মিরপুর-১০ শাখার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিও হিসাবে জমা থাকা মূল টাকা ফেরত এবং কেটে নেওয়া সুদ মওকুফের আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারী আবুল কালাম আজাদ। তার অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি)।

সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের শেয়ারবাজার-১ শাখা থেকে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, মিরপুর-১০ নম্বর এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজে আবুল কালাম আজাদের জমা করা ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তার আবেদনটি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএসইসিতে পাঠানো হলো।

এর আগে গত আগস্টে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেন বিনিয়োগকারী আবুল কালাম আজাদ। ব্রোকারেজ হাউজটির ০৩৯২৬ কোডের বিও হিসাবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে জমা করা অর্থ ফেরত এবং কর্তন করা সুদের অর্থ মওকুফের আবেদন করেন তিনি।

আবেদনে আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজের মিরপুর-১০ শাখা তার অজ্ঞাতে বিও হিসাবে জমা থাকা ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা দিয়ে বিভিন্ন শেয়ার কেনাবেচা করেছে।

তার দাবি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নাহিদ, আসিফ, মাকসুদ ও সানি নামের ট্রেডাররা তার অনুমতি ছাড়াই এসব লেনদেন করেছেন। এমনকি তার মার্জিন হিসাবেও নন-মার্জিন শেয়ার কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন ও ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের মতো কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে তার কোনো অনুমতি বা নির্দেশনা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আবুল কালাম আজাদের ভাষ্য, অনুমতি ছাড়া এসব লেনদেনের ফলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার বিনিয়োগের অর্থে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৬ নভেম্বরের পোর্টফোলিও তুলনা করলে তার হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অনিয়মের বিষয়টি পাওয়া যাবে।এ ঘটনায় ব্রোকারেজ হাউজটির সিইও আরেফিন, নাজমা খাতুন ও আদনান দায়ী বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এ ছাড়া ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর সুদ মওকুফের জন্য আবেদন করেছিলেন বলে জানান আবুল কালাম আজাদ। তার দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও ওই আবেদনের কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। আবেদনটি এখনো ব্রোকারেজ হাউজটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কার্যালয়ে পড়ে আছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেন, এ বিষয়ে বিএসইসির কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযোগটি যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়া তার বিও হিসাব ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচা হয়ে থাকলে সেটি গুরুতর অনিয়মের বিষয়। একইভাবে মার্জিন হিসাবে নন-মার্জিন শেয়ার কেনা কিংবা বিনিয়োগকারীর অর্থ অন্যভাবে ব্যবহারের অভিযোগও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ শুধু একজন বিনিয়োগকারীর আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া লেনদেন এবং বিনিয়োগকারীর সম্পদ সুরক্ষার বিষয়ও জড়িত।

তবে অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি। বিএসইসি অভিযোগ যাচাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর অর্থ ও স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে