×
ঢাকা, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুঃসংবাদ: যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী ভিসায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১১ ০৯:০৯:৫৬
দুঃসংবাদ: যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী ভিসায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক : কর্মী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশিদের জন্য বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, তা বাতিল হতে পারে। ফলে চাকরি শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) প্রস্তাবটি জনমতের জন্য প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবের ওপর ৬০ দিন মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এরপর মতামত পর্যালোচনা করে নিয়মটি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

DHS-এর প্রস্তাবের নাম ‘Eliminating the Discretionary 60-day Grace Period’। এতে বর্তমান নিয়ম বাতিল করে চাকরি বা সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট কিছু অস্থায়ী ভিসাধারীদের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমান নিয়মে যোগ্য কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন—অথবা তাদের অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ তার আগে শেষ হলে সেই সময় পর্যন্ত—যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা, নতুন স্পনসরশিপের প্রক্রিয়া শুরু করা, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করা কিংবা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান। এই গ্রেস পিরিয়ড ২০১৭ সালে কার্যকর হয়।

প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এই সুযোগ আর থাকবে না। ফলে চাকরি শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বৈধ অবস্থান বজায় রাখার জন্য দ্রুত অন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে অথবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তন শুধু H-1B ভিসাধারীদের জন্য নয়। DHS-এর নথি অনুযায়ী, E-1, E-2, E-3, H-1B, H-1B1, L-1, O-1 ও TN শ্রেণির অস্থায়ী ভিসাধারী এবং তাদের নির্ভরশীলদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এর মধ্যে H-1B ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও অন্যান্য উচ্চদক্ষতার খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ পেশাজীবীরা এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করেন।

H-1B কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, পরামর্শক ও আউটসোর্সিং কোম্পানিগুলোর ওপর প্রস্তাবটির প্রভাব পড়তে পারে। চাকরি হারানোর পর কর্মীদের হাতে নতুন স্পনসর খোঁজার সময় কমে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হতে পারে।

DHS অবশ্য বলছে, গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হলে কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য সাময়িকভাবে কর্মী ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিভাগটির ধারণা, এতে যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য কিছু চাকরির সুযোগ বাড়তে পারে।

DHS-এর যুক্তি, বর্তমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড কর্মীর বৈধ অবস্থান এবং যে চাকরি বা কার্যক্রমের ভিত্তিতে তার ভিসা দেওয়া হয়েছে—এই দুটির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ককে দুর্বল করে। একই সঙ্গে গ্রেস পিরিয়ড প্রযোজ্য কি না, সেটি নির্ধারণে প্রশাসনিক কাজও বাড়ে বলে বিভাগটি মনে করছে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মাধ্যমে DHS কর্মীর অভিবাসন-স্ট্যাটাসকে তার ভিসার ভিত্তি হিসেবে থাকা চাকরি বা কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে চায়।

প্রস্তাবটি প্রকাশিত হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। ফলে বর্তমানে যোগ্য H-1B ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ভিসাধারীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড পাওয়ার সুযোগ রাখেন।

DHS-এর প্রস্তাবের ওপর ৬০ দিনের মধ্যে জনমত গ্রহণ করা হবে। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এ সময়ে মতামত দিতে পারবেন। এরপর প্রশাসন প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করবে কি না এবং করলে কী পরিবর্তন আনবে, তা নির্ধারণ করবে।

ফলে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য বর্তমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বহাল রয়েছে। তবে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে চাকরি হারানো কর্মীদের নতুন চাকরি বা স্পনসর খোঁজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর



রে