×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলকে প্রকৃতির মোক্ষম জবাব

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১৬:৩৮:২৯
ইসরায়েলকে প্রকৃতির মোক্ষম জবাব

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চরম পানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পানির অভাবে সেখানে মানবিক হাহাকার চলছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক বিপর্যয়। তবে আশ্চর্যজনকভাবে এবার প্রকৃতির এক অদ্ভুত প্রতিশোধের শিকার হয়েছে খোদ ইসরায়েল। গাজাবাসীদের যে পানির অভাব, তার নেপথ্যে দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি নীতির দায় অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু সম্প্রতি ইসরায়েলের উপকূলীয় অঞ্চলে পানির উৎসে যে সংকট দেখা দিয়েছে, তাকে অনেকেই প্রকৃতির এক ‘সংশোধনমূলক বিচার’ হিসেবে দেখছেন।

ইসরায়েলের উপকূলীয় পানির মূল উৎস ভূমধ্যসাগর। কিন্তু বর্তমানে সেখানে এক রহস্যময় অণুজীব বা ‘মাইক্রো অ্যালগি’র (ক্ষুদ্র শৈবাল) ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এই শৈবালগুলো ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ১২ মাইল এলাকাজুড়ে। এই অণুজীবগুলো ইসরায়েলের উপকূলীয় পানি বিশুদ্ধকরণ বা ওয়াটার ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলোর কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তিতে কাজ করা এই প্ল্যান্টগুলোর বিশেষ পর্দা বা মেমব্রেন এই শৈবালের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে ইসরায়েলের একটি বড় অংশের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে ভেঙে পড়েছে।

যে ইসরায়েল গাজাবাসীর পানির অধিকারকে বছরের পর বছর অবজ্ঞা করেছে, আজ সেই একই ইসরায়েল পানির সংকটে পড়েছে। গাজাবাসীদের তৃষ্ণার কষ্ট যেন প্রকৃতির আয়নায় ইসরায়েলের নিজের সংকট হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, এমন ঘটনা গত ২০ বছরেও দেখা যায়নি। ভূমধ্যসাগরের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, স্রোতের পরিবর্তনের ফলে দূষণকারী উপাদানের প্রবেশ এবং শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের এক ভয়াবহ রূপ এখানে স্পষ্ট।

ইসরায়েলের বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি এক বড় অশনি সংকেত। ভূমধ্যসাগরের পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় আরও বাড়তে পারে। আজ যে পানি তারা বিশুদ্ধ করে ব্যবহার করতে পারছে না, তা তাদের প্রযুক্তিগত অহংকারেও আঘাত করেছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে