×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তদন্তের মধ্যেই WHO’র পদ ছাড়লেন হাসিনাকন্যা পুতুল

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ০৮:২১:৩৩
তদন্তের মধ্যেই WHO’র পদ ছাড়লেন হাসিনাকন্যা পুতুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তার বিরুদ্ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের তদন্তের মধ্যে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান।

WHO মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং বাংলাদেশে একটি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার মতো অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছিল। তবে এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে WHO’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ।

তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা করে। একই বছরের জুলাইয়ে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। পরে WHO তাকে অবৈতনিক প্রশাসনিক ছুটিতে রাখে।

রয়টার্সের দেখা ৩ জুলাইয়ের একটি চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা WHO’র পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত কয়েকটি অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে ছিল চীন সফরকে ঘিরে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ।

চীন সফরসংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, বিষয়টি মূলত তার একজন সহকারী রুটিন বিল দাখিলের সময় করা প্রশাসনিক ভুলের সঙ্গে সম্পর্কিত। সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ ডলার বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

সায়মা ওয়াজেদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটিকে ইচ্ছাকৃত আর্থিক জালিয়াতি হিসেবে দেখানো সঠিক নয়।

তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও অভিযোগ ওঠে। তবে সায়মা ওয়াজেদ দাবি করেছেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছিলেন।তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই যোগ্যতার বিষয়টি WHO মহাপরিচালকের কাছেও আগে থেকেই পরিষ্কার ছিল।

বাংলাদেশে বেআইনিভাবে একটি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন সায়মা ওয়াজেদ।

এর জবাবে তিনি দাবি করেন, WHOতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি পেয়েছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্ধারিত আইনের আওতায় তিনি ওই জমি পাওয়ার বৈধ অধিকারী ছিলেন বলেও দাবি করেন।

পদত্যাগপত্রে WHO মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুসের নেতৃত্ব নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন সায়মা ওয়াজেদ।

তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনে তাকে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে WHOতে তেদ্রোসের নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা হারিয়েছে বলেও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন।এ ছাড়া দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় তার আর্থিক পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে WHO’র অভ্যন্তরীণ দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণের পরিকল্পনা করছিল সংস্থাটি।

একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১২ অক্টোবর আঞ্চলিক পরিচালকের পদে নতুন মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষ করে ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

WHO’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহামারি বা জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নীতিমালা বাস্তবায়নে এই পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর ভোটে পাঁচ বছর মেয়াদে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন।

সায়মা ওয়াজেদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত WHO’র আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন। তার পদত্যাগের ফলে এখন ওই পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার কথা।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া। WHO এবং সায়মা ওয়াজেদের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে