×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনার সাথে পল্টি মারলেন ভাগিনা শেখ তাপস

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১২:২৩:৩৩
শেখ হাসিনার সাথে পল্টি মারলেন ভাগিনা শেখ তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক আগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের দেশত্যাগের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির দেশত্যাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাপসের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে আসে—সরকারের সবচেয়ে সংকটময় সময়ে তিনি কি শেখ হাসিনাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন?

তবে ৩ আগস্টের প্রকাশিত ফোনালাপের বর্ণনা ভিন্ন একটি তথ্য সামনে আনে। এতে দেখা যায়, তাপস তার বিদেশযাত্রার বিষয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং যাওয়ার বিষয়ে তার সম্মতি চেয়েছেন। শেখ হাসিনার পক্ষ থেকেও তাকে যেতে বলা হয়েছিল ।

তাপসকে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথোপকথন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত ফোনালাপের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলন মোকাবিলা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন স্থাপনা নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল।

এ ছাড়া আল-জাজিরার একটি তদন্তের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা ও তাপসের কথোপকথনে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার ব্যবহারের প্রসঙ্গ থাকার কথা বলা হয়েছে।

ঠিক এমন একটি সময়ে শেখ তাপসের সিঙ্গাপুর যাওয়ার চেষ্টা এবং তার আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ ঘটনাটিকে রাজনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

কারণ মাত্র দুই দিন পরই শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—তৎকালীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে কতটা অবগত ছিল এবং সংকটের শেষ পর্যায়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন?

দেশত্যাগ ও ফোনালাপের বিতর্কের পাশাপাশি শেখ তাপসের নামে প্রকাশিত একটি নিবন্ধও নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ‘দৈনিক মানবজীবন’ পত্রিকার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই নিবন্ধে আওয়ামী লীগকে ‘গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক’ আদর্শের রাজনৈতিক দল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

নিবন্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। নিবন্ধে ওই নির্বাচনগুলোর গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং বিভিন্ন আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি শুধুই অতীতের রাজনৈতিক বাস্তবতার মূল্যায়ন, নাকি আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভিন্ন কোনো বার্তা?

বিশেষ করে আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার নামে এমন বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ায় দলের অতীতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

তবে নিবন্ধের বক্তব্যকে সরাসরি আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করার আগে দলটির প্রতিক্রিয়া এবং শেখ তাপসের নিজের ব্যাখ্যা জানা জরুরি।

নিবন্ধটি প্রকাশের পর আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—শেখ তাপস কি তার বক্তব্যের মাধ্যমে দলের নেতৃত্বের প্রতি কোনো পরোক্ষ রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন?

এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা থাকলেও, নিবন্ধটিকে সরাসরি শেখ হাসিনার সমালোচনা হিসেবে চিহ্নিত করার মতো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া না গেলে এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া কঠিন।

একটি ব্যাখ্যা হতে পারে, এটি আওয়ামী লীগের অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সম্ভাব্য ভিন্নমতের প্রতিফলনও এতে থাকতে পারে।

একদিকে সরকার পতনের মাত্র দুই দিন আগে শেখ তাপসের বিদেশযাত্রা, অন্যদিকে সেই যাত্রার আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথোপকথন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন নিয়ে প্রকাশিত কথোপকথনের বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে তার নামে প্রকাশিত নিবন্ধ।

সবগুলো ঘটনা পাশাপাশি রাখলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়—আওয়ামী লীগের সংকটময় সময়ে শেখ তাপসের রাজনৈতিক অবস্থান আসলে কী ছিল?

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে