×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গার্মেন্টস খাতকে শেয়ারবাজারে আনতে যৌথ উদ্যোগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ১২:০৬:০২
গার্মেন্টস খাতকে শেয়ারবাজারে আনতে যৌথ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের প্রতিশ্রুতিশীল কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে কারিগরি ও পরামর্শমূলক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সুইসকন্টাক্ট। এ লক্ষ্য অর্জনে আগামী এক বছরের মধ্যে বেশ কিছু আরএমজি প্রতিষ্ঠানকে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি, যাতে অন্য কোম্পানিগুলোও পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলনে উৎসাহিত হয়।

বুধবার রাজধানীর ডিএসই ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও সুইসকন্টাক্ট-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এক্সপ্যান্ডিং আরএমজি’স ফাইন্যান্সিং হরাইজনস: অপরচুনিটিজ ইন দ্য ক্যাপিটাল মার্কেট’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সুইসকন্টাক্ট-এর 'প্রগ্রেস' প্রকল্পের টিম লিডার ফারজানা আমিন জানান, ব্যাংক ঋণের ওপর চাপ কমিয়ে পোশাক খাতের কোম্পানিগুলোর উচিত শেয়ারবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া। যারা শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী, তাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব ধরনের নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা দেবে সুইসকন্টাক্ট।

কর্মশালায় ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, শেয়ারবাজারকে কেবল বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে না দেখে বেসরকারি খাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। তিনি ইকুইটি ও আইপিওর পাশাপাশি বিশেষ করে বন্ড মার্কেটের মতো অর্থায়নের অন্যান্য পথ প্রসারের ওপর জোর দেন। একই সাথে আইপিও থেকে উত্তোলিত তহবিলের ব্যবহার এবং পুনঃঅর্থায়নের সুবিধার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিগত ও আইনি বাধা পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

বিকেএমইএ-র উপ-সচিব মো. হারুনুর রশীদ বলেন, দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো প্রধানত ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে, যা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল পাওয়ার পথকে সীমিত করে ফেলে। সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনতে পারলে তারা যেমন ব্যবসা বাড়াতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে, তেমনি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও গতি পাবে। তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে লিস্টিংয়ের পরেও ব্যবসার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বিএমবিএ সভাপতি ও লঙ্কাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের সিইও ইফতেখার আলম নতুন তালিকাভুক্তির নিয়মের অধীনে কীভাবে মূলধন তোলা যায় তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি মেইন বোর্ডের আইপিও এবং এসএমই বোর্ডের কিউআইও'র যোগ্যতা, ভ্যালুয়েশন, ফান্ড ব্যবহার ও লক-ইন পিরিয়ডের নিয়ম নিয়ে আলোচনা করেন।

অন্যদিকে ডিএসই’র বাজার উন্নয়ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের বাজারের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বন্ড ও সরাসরি তালিকার সুযোগগুলো তুলে ধরেন। ডিএসই’র প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মো. আসিফুর রহমান জানান, শেয়ারবাজার আসতে ইচ্ছুক উদ্যোক্তাদের ডিএসই বিনামূল্যে পরামর্শ ও ওয়ান-টু-ওয়ান কাউন্সিলিং সেবা দিচ্ছে।

সুইসকন্টাক্ট-এর 'ইনস্পায়ার' প্রকল্পের টিম লিডার বিদৌরা তাহমিন খান এবং ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর সাইয়েদা ইসরাত ফাতেমা জানান, সংস্থাটি গত দুই দশক ধরে পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের কমপ্লায়েন্স, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গ্রিন ট্রানজিশন নিয়ে কাজ করছে। সেই অভিজ্ঞ কাজে লাগিয়ে বিএসইসি ও ডিএসই’র সাথে যৌথভাবে তারা সম্ভাবনাময় টেক্সটাইল ও পোশাক কারখানাগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবে। কর্মশালায় বিকেএমইএ-র শীর্ষস্থানীয় সদস্য কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এমজে/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে