×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বড় সুখবর: এক ভিসায় ঘুরতে পারবেন মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ!

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ০৯:৩৯:৫৫
বড় সুখবর: এক ভিসায় ঘুরতে পারবেন মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক : মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) ছয় সদস্যদেশে ভ্রমণের জন্য চালু হতে যাচ্ছে একটি ইউনিফাইড ট্যুরিস্ট ভিসা। প্রস্তাবিত এই ভিসার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা একটি ভিসা নিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ওমান ও কুয়েত ভ্রমণ করতে পারবেন। জিসিসির মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই জানিয়েছেন, বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পটি শিগগিরই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড হিস্ট্রি ডায়ালগ ২০২৬’-এর বিশেষ অধিবেশনে জিসিসির মহাসচিব এই ভিসা নিয়ে সর্বশেষ অগ্রগতির কথা জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একক ভিসা চালু হলে ছয়টি জিসিসি দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের চলাচল আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে পর্যটন খাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি সমন্বিত পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রস্তাবিত ইউনিফাইড ট্যুরিস্ট ভিসার আওতায় থাকবে জিসিসির ছয় সদস্যরাষ্ট্র—সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত। ফলে একজন আন্তর্জাতিক পর্যটক একই সফরে দুবাই বা আবুধাবি থেকে সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, ওমান কিংবা কুয়েত যেতে পারবেন—প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা পর্যটন ভিসা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমবে।

বর্তমানে ছয়টি দেশ আলাদা আলাদা ভিসা ও প্রবেশব্যবস্থা পরিচালনা করে। ফলে একাধিক দেশ নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে পর্যটকদের বিভিন্ন দেশের নিয়ম ও ভিসা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে এই প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থাটিকে ইউরোপের শেনজেন ভিসার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে মূলত একটি ভিসার মাধ্যমে একাধিক দেশে ভ্রমণের সুবিধার কারণে। তবে এটি ইউরোপীয় শেনজেন ব্যবস্থার হুবহু অনুকরণ নয়; জিসিসির নিজস্ব নিয়ম, সীমান্তব্যবস্থা ও অভিবাসন নীতির ভিত্তিতেই এর কাঠামো নির্ধারিত হবে।

জিসিসির দেশগুলোর মধ্যে পর্যটন ও যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ও পর্যটন সংহতি বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—ভিসাটি ঠিক কবে চালু হবে। জিসিসির মহাসচিব জানিয়েছেন, প্রকল্পটি শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে। তবে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। একইভাবে ভিসার আবেদন পদ্ধতি, ফি, মেয়াদ এবং পর্যটকরা সর্বোচ্চ কতদিন ছয় দেশে অবস্থান করতে পারবেন—এসব বিষয়েও চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

জিসিসির সদস্য দেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পাসপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। ২০২৩ সালে জিসিসির পর্যটন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীদের পর্যায়ে একক পর্যটন ভিসা চালুর বিষয়ে অনুমোদনের পর থেকেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে আসছে।

একক ভিসা চালু হলে একই সফরে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ ঘুরতে চাওয়া পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ পরিকল্পনা সহজ হবে। উদাহরণ হিসেবে, কেউ দুবাই দিয়ে ভ্রমণ শুরু করে সৌদি আরব, কাতার, ওমান ও বাহরাইন ঘুরে কুয়েত যেতে চাইলে আলাদা আলাদা ভিসার প্রয়োজনীয়তা কমতে পারে।

এর ফলে পর্যটকদের সময় ও প্রশাসনিক ঝামেলা কমার পাশাপাশি বহু-দেশভিত্তিক ট্যুর প্যাকেজের চাহিদা বাড়তে পারে। বিমান, হোটেল, পর্যটন, পরিবহন ও বিনোদনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটকদের জন্যও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ এক সফরে ঘুরতে চান, তাদের জন্য একটি সমন্বিত ভিসা ব্যবস্থা ভ্রমণ পরিকল্পনাকে সহজ করতে পারে।

তবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য ঠিক কী যোগ্যতা থাকবে, আবেদন কোথা থেকে করতে হবে, কত ফি দিতে হবে এবং কোনো অতিরিক্ত শর্ত থাকবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রকাশ হয়নি। তাই এসব তথ্যের জন্য জিসিসি ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।

সব মিলিয়ে, এক ভিসায় ছয় দেশ ভ্রমণের সুযোগ চালু হলে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন ব্যবস্থায় এটি একটি বড় পরিবর্তন হতে পারে। এখন নজর থাকবে কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিসা চালু হয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য এর আবেদন ও ব্যবহারের নিয়ম কী নির্ধারণ করা হয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

প্রবাস এর সর্বশেষ খবর

প্রবাস - এর সব খবর



রে