×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদত্যাগপত্রে নিজের অবস্থান জানালেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ০৯:১৭:৪২
পদত্যাগপত্রে নিজের অবস্থান জানালেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে তদন্তের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পদত্যাগ করেন।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দেখা তার পদত্যাগপত্রে পদ ছাড়ার কারণ এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।

WHO মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ জানান, আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।তবে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার কারণে WHO নেতৃত্বের ওপর তার আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, দায়িত্ব পালনের সুযোগ না পাওয়ার পরিস্থিতিতে তিনি আর আগের মতো কাজ চালিয়ে যেতে পারছিলেন না। এ অবস্থায় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

পদত্যাগপত্রে নিজের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন সায়মা ওয়াজেদ।তিনি জানান, প্রায় এক বছর ধরে তিনি কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এর ফলে তার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এই পরিস্থিতিও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন সায়মা।পদত্যাগপত্রে বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে নেওয়ার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন সায়মা ওয়াজেদ।

তার দাবি, WHOতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি পেয়েছিলেন। বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় জমিটি পাওয়ার বৈধ অধিকার তার ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।অর্থাৎ, তার বক্তব্য অনুযায়ী, WHOতে দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে ওই জমি পাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীন সফরকে কেন্দ্র করে আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ করেছে WHO—তার আইনজীবীদের ৩ জুলাইয়ের একটি চিঠির বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।এ ছাড়া তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

তবে সায়মা ওয়াজেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের জন্য WHO’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ।

এরপর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে মামলা করে। একই বছরের জুলাইয়ে তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়।পরে বছরের শেষ দিকে WHO তাকে বেতনবিহীন প্রশাসনিক ছুটিতে রাখে।

আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করলেও তদন্তের বিষয়টি এখনও গুরুত্বপূর্ণ।

পদত্যাগপত্রে তিনি একদিকে WHO নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়াকে নিজের আর্থিক সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এখন তার বিরুদ্ধে চলমান তদন্তগুলোর ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলোর প্রকৃত ভিত্তি কতটা। তবে পদত্যাগপত্রে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সায়মা ওয়াজেদ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে WHO’র আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্বে আর থাকতে চান না।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে