×
ঢাকা, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রোকারেজ হাউসে ‘অপ্রয়োজনীয় হয়রানি’ বন্ধ চায় ডিবিএ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ২০:০৩:০২
ব্রোকারেজ হাউসে ‘অপ্রয়োজনীয় হয়রানি’ বন্ধ চায় ডিবিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রোকারেজ হাউসের নিয়মিত পরিদর্শন ও তদন্তের নামে ‘অপ্রয়োজনীয় হয়রানি’ বন্ধে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি। বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে পরিচালিত পরিদর্শন ও তদন্ত এবং এর ফলে শেয়ারবাজারে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।

বাজারসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১০০টি ব্রোকারেজ হাউস তদন্তের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহেই প্রায় ৮ থেকে ১০টি ব্রোকারেজ হাউসে পরিদর্শন বা তদন্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকের ফলাফল বিষয়ে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কিংবা ডিএসইর তদন্তের বিরোধিতা করছে না ব্রোকারেজ হাউসগুলো। তবে তদন্তের নামে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তিনি বলেন, নিয়মিত পরিদর্শন ও তদন্ত প্রয়োজন। কোনো ব্রোকারেজ হাউসে অনিয়ম পাওয়া গেলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে তা এমনভাবে করা উচিত নয়, যাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সামগ্রিক বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, সম্প্রতি কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসে তদন্ত হয়েছে। এসব ঘটনার যেভাবে প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি পুরো শেয়ারবাজারের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তার মতে, তদন্ত এমন সহনীয় ও দায়িত্বশীল পদ্ধতিতে পরিচালনা করা প্রয়োজন, যাতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

ডিএসইর অবস্থান

ব্রোকারেজ হাউসে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ এক্সচেঞ্জের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে না। পর্ষদ মূলত নীতিগত দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে ডিএসই প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্ত বা অনুসন্ধান করবে।

ডিএসই চেয়ারম্যান আরও বলেন, সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সিসি অ্যাকাউন্ট, শেয়ার বা অন্যান্য সম্পদে কোনো ঘাটতি থাকলে তা নিজেদের উদ্যোগে দ্রুত সমাধান করতে হবে।

এ ধরনের ঘাটতি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে যেমন বাধাগ্রস্ত করে, তেমনি পুরো শেয়ারবাজার ব্যবস্থার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

এ সময় ডিএসই চেয়ারম্যান সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সমস্যা, উদ্বেগ, সুপারিশ ও নতুন ধারণা ডিএসইর কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। সদস্যদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে বাজার উন্নয়নসংক্রান্ত উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ডিএসই কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

কেন সাম্প্রতিক পরিদর্শন

ডিএসই জানিয়েছে, ২০২৫ সাল থেকে কিছু কমপ্লায়েন্স ও সার্ভিল্যান্স পরিদর্শন অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। এসব পরিদর্শনের প্রতিবেদন বিএসইসিতে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসে পরিদর্শন করা হয়েছে।

বৈঠকে বাজারসংশ্লিষ্টরা অস্বাভাবিক লেনদেন নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ মানদণ্ড তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন।

তাদের মতে, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি শেয়ারে লেনদেনের পরিমাণ বেশি হলেই সেটিকে অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং লেনদেনের ধরন, শেয়ারদরে এর প্রভাব, বিনিয়োগকারীর আর্থিক সক্ষমতা এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে দেওয়া নির্দেশনা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে অস্বাভাবিক লেনদেন নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের উপস্থিতিতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর এসব উদ্বেগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং পর্ষদ তাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছে।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সংগঠনটিকে আশ্বস্ত করেছেন।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে