×
ঢাকা, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই প্রার্থী হওয়া যাবে? ইসির প্রস্তাবে যা আছে

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৯ ১৭:৪৭:৫৬
শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই প্রার্থী হওয়া যাবে? ইসির প্রস্তাবে যা আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে প্রার্থীদের হলফনামায় নতুন তথ্য সংযোজন, অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিল, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাসহ বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের কোনো প্রস্তাব দেয়নি ইসি। ইসি ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের আইন এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিধি সংশোধনের প্রস্তাব রয়েছে।

ইসির প্রস্তাবে প্রার্থীদের হলফনামায় নতুন কিছু তথ্য যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়া বা তথ্য গোপন করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।তবে হলফনামায় দেওয়া তথ্য কীভাবে যাচাই করা হবে, সে বিষয়ে প্রস্তাবে বিস্তারিত ব্যবস্থা স্পষ্ট নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কেউ অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার প্রস্তাবও করেছে ইসি। জামায়াতে ইসলামী এ বিধানের বিরোধিতা করলেও ইসির চূড়ান্ত প্রস্তাবে এটি রাখা হয়েছে।

ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা হয়েছে, তাদেরও নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনি অপরাধের শাস্তি বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। নির্বাচনি অপরাধে সর্বনিম্ন ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ডের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের সময় নিয়েও নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে ইসি। এতে পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।তবে কোনো কারণে ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব না হলে ইসি সুবিধাজনক সময়ে ভোট নিতে পারবে।

চলতি সেপ্টেম্বরেই কিছু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এবারও ধাপে ধাপে এসব নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম ধাপে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলার ইউনিয়ন পরিষদকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। কোন ইউনিয়ন পরিষদে কবে ভোট হবে, তা শিগগিরই কমিশন সভায় চূড়ান্ত হতে পারে।

ইসির প্রস্তাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ বাতিলের কথাও বলা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের মতে, পলাতক ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। একই ব্যবস্থা স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কার্যকর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে একাধিক স্থানে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে নির্বাচনে বাধা দিয়ে কাউকে প্রার্থী হওয়া থেকে ঠেকানো তুলনামূলক কঠিন হবে।

ইসির এসব সংশোধনী কার্যকর হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার সুযোগ কিছুটা তৈরি হতে পারে বলেও নির্বাচনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ইসির পাঠানো সংশোধনী সংসদে পাস হতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি সংসদ অধিবেশনে এসব সংশোধনী পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সংশোধনী পাস না হলে বিদ্যমান আইন ও বিধি অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে