×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাতিল হবে ইমাম-পুরোহিতের সম্মানি ভাতা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৮ ০৯:৫৬:৪৭
বাতিল হবে ইমাম-পুরোহিতের সম্মানি ভাতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করেছে সরকার। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট ৯টি কারণে এই সম্মানি বাতিল হতে পারে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সম্মানি পাওয়ার যোগ্যতা, অযোগ্যতা এবং বাতিলের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, সম্মানি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি উপজেলা কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার বা গির্জায় কর্মরত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকার নিয়োগপত্রও থাকতে হবে।

সরকারের লক্ষ্য হলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা। পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় তাঁদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা।

নীতিমালা অনুযায়ী, নিচের যেকোনো কারণে কোনো ব্যক্তির সম্মানি বাতিল হতে পারে—

নৈতিক স্খলন বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে— নৈতিক স্খলনজনিত বা ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হলে সম্মানি বাতিল হবে।

চাকরিচ্যুত বা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে— সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হলে কিংবা নিজে পদত্যাগ করলে সম্মানি বন্ধ হবে।

তথ্য জালিয়াতি প্রমাণিত হলে— সম্মানি পাওয়ার জন্য দেওয়া তথ্যের কোনো অংশ জাল বা ভুয়া প্রমাণিত হলে সুবিধা বাতিল হবে।

রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে— রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সম্মানি বাতিল হবে।

সম্মানিভোগীর মৃত্যু হলে— কোনো সম্মানিভোগীর মৃত্যু হলে তাঁর সম্মানি বাতিল বলে গণ্য হবে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত না থাকলে— সংশ্লিষ্ট মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার বা গির্জায় কর্মরত না থাকা অবস্থায় সম্মানিভোগী হিসেবে নির্বাচিত হলে ভাতা বাতিল হবে।

অন্য উৎস থেকে বেতন-ভাতা পেলে— সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, বিদেশি সংস্থা বা উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বেতন-ভাতা পেলে এ কর্মসূচির আওতায় সম্মানি পাওয়া যাবে না।

সমাজবিরোধী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে— সমাজবিরোধী বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সম্মানি বাতিল হবে।

রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে— কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হলে বা সদস্য হিসেবে থাকলে এ কর্মসূচির আওতায় সম্মানি পাওয়ার যোগ্যতা থাকবে না।

মসজিদ: ইমাম মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা পাবেন। অর্থাৎ একটি মসজিদের জন্য মাসিক মোট বরাদ্দ ১০ হাজার টাকা।

মন্দির: প্রধান পুরোহিত মাসে ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা পাবেন। এ খাতে মাসিক মোট সম্মানি ৮ হাজার টাকা।

বৌদ্ধ বিহার: প্রধান ধর্মগুরু বা বিহার অধ্যক্ষ মাসে ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা পাবেন। মোট মাসিক বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা।

গির্জা: প্রধান যাজক মাসে ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা পাবেন। গির্জার জন্যও মাসিক মোট বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা।

মাসিক সম্মানির পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে এককালীন ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মসজিদে কর্মরত সম্মানিভোগীরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ১ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। অন্যদিকে মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জায় কর্মরত সম্মানিভোগীরা যথাক্রমে দুর্গাপূজা, বুদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে ২ হাজার টাকা করে এককালীন উৎসব ভাতা পাবেন।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য নিয়মিত সম্মানি ও উৎসবভাতার একটি কাঠামো তৈরি হলো।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে