×
ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিফাত হত্যা, সামনে এলো নেহার চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৭ ১১:২৪:০৩
সিফাত হত্যা, সামনে এলো নেহার চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর সবুজবাগে সিফাত উল্লাহ (২৭) হত্যা মামলায় নাজিফা শেখ নেহার একাধিক প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব সম্পর্কের পূর্বাপর দ্বন্দ্বের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় অন্য কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, নেহা অনলাইনে কাপড় বিক্রি করতেন। সেখান থেকেই সিফাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল। ঘটনার দিন দুজনের মার্কেটে যাওয়ার কথা ছিল।

পুলিশ জানায়, নেহার আগে সাজিদ নামে আরেক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সাজিদের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনে সিফাতের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। এ বিষয়সহ বিভিন্ন দ্বন্দ্বের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের।ঘটনার পর নেহাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদসহ ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারটেক আদর্শপাড়া বরইতলা এলাকায় একটি রুম ভাড়া করে নেহা আরেক তরুণীর সঙ্গে থাকতেন। রোববার সিফাত সেখানে গেলে দুই যুবক দরজায় নক করে ভেতরে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে সিফাতের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সিফাত ওই বাসায় থাকা একটি চাকু দিয়ে তাদের আঘাত করেন। আহত দুই যুবক সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় সিফাত বুঝতে পারেন, তার ওপর হামলা হতে পারে। তিনি দ্রুত নিচে নেমে মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আহত দুই যুবকসহ আরও কয়েকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সিফাতকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সবুজবাগের মাদারটেক আদর্শপাড়া বরইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সিফাতকে প্রথমে মুগদা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিকেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় নেহাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি তার সাবেক প্রেমিক সাজিদসহ মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শুধু নেহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

হামলায় আহত রাজির রাব্বি (২৫) ও ইয়াসিন (২২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। সিফাতের বন্ধু হাসান জানান, সিফাত মোটরসাইকেলে করে ওই তরুণীর বাসার সামনে গিয়েছিলেন তার সঙ্গে দেখা করতে। একপর্যায়ে হামলার বিষয়টি বুঝতে পেরে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তার ওপর হামলা চালানো হয়।

নিহত সিফাত দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। কিছুদিন আগে দেশে ফেরেন। আবার কাতারে যাওয়ার কথা ছিল তার। তার বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন।

অন্যদিকে নেহা বর্তমানে ঢাকার সবুজবাগের উত্তর আদর্শপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকতেন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে সিফাতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। এরপর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে