×
ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াত আমিরকে কড়া জবাব ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’  শাহাদাতের 

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ০৯:৩২:৪৩
জামায়াত আমিরকে কড়া জবাব ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’  শাহাদাতের 

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে জবাব দিয়েছেন তিনি।

শাহাদাত হোসেনের দাবি, আদালতের রায় অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদ রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে তিনি মেয়রের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন চসিক মেয়র।

শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জামায়াতের সম্মানিত আমির শফিকুর রহমান সাহেব লালদিঘীতে আমাকে মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র বলেছেন। আমি এটা বলতে চাই, আমার এই রায়টি ফ্যাসিবাদী রাজত্ব যারা ১৬ বছর কায়েম করেছে, সেই হাসিনা সরকারের সময় জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।’

তিনি জানান, ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন। আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই তাকে মেয়র হিসেবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন ও গেজেট প্রকাশের পর তিনি শপথ নেন।

মেয়র বলেন, ‘রায়টি হয়েছে ৫ আগস্টের পরে, আপনারা দেখেছেন যখন অন্তর্বর্তী সরকারের ইউনূস সরকারের সময়। কাজেই যে রায় আমি পেয়েছি, জনগণের যে প্রত্যাশিত রায়, সেই রায়ের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চসিক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়াদকেও আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করেন শাহাদাত।

নিজের মেয়াদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের নভেম্বরের ৩ তারিখ আমি শপথ নিয়েছি। সেখান থেকে স্বাভাবিকভাবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত আমার মেয়াদ থাকবে।’

তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে মেয়রের পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শাহাদাত। তিনি বলেন, জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে স্বাগত জানাবেন।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ যেদিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে, সেদিনই তিনি মেয়রের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্বাগত জানাবেন।

জামায়াত আমিরের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে শাহাদাত বলেন, ‘ওনার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উনি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী সময়ে যে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিল, সেই রেজাউল করিমকে বৈধ মেয়র হিসেবে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।’

এর আগে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে চসিক মেয়রের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, ‘এখানে একজন মেয়র আছেন। ওনার মেয়াদ কি এখনো আছে? ওনাকে কি আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ বলব না?’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, নির্বাচিত হয়ে জনগণের ভোটে দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকলে তাতে তার আপত্তি নেই। তবে জনগণ অন্য কাউকে নির্বাচিত করলে সেটিও মেনে নিতে হবে।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতির পর বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির।

অন্যদিকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে শাহাদাত হোসেন বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতি’র চর্চা করে আসছেন। গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো গণতান্ত্রিক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে স্বাগত জানাবেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে