×
ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কারাগারে বসেই স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কল, জানুন নতুন নিয়ম

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৫ ১৫:৪২:০৩
কারাগারে বসেই স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কল, জানুন নতুন নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক : কারাগারের বন্দিজীবনে স্বজনদের কাছ থেকে দূরে থাকার কষ্ট কিছুটা কমাতে চালু হচ্ছে ভিডিও কলের বিশেষ সুবিধা। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ সুবিধা চালু হয়েছে। শিগগিরই দেশের অন্যান্য কারাগারেও এটি সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

নতুন এই সুবিধার আওতায় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট করে ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।

ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, শিগগিরই সারা দেশের কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে।

কারাগারে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় শিক্ষা, কাউন্সেলিং এবং মানসিক উন্নয়নমূলক নানা কর্মসূচি।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্দিদের উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রমও চালু রয়েছে। উৎপাদিত সাবান বন্দি ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে।ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারা সদর দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।এ ছাড়া ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে। তাদের পদায়নের মাধ্যমে কারাগারে স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বন্দি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখান থেকে পানি সরবরাহ চলছে।আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও প্রশিক্ষিত জনবলের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

কারা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষা, বন্দি পালানো প্রতিরোধ, অনিয়ম ঠেকানো ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদক প্রবেশ ও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিও গ্রহণ করা হয়েছে। কারা সদর দপ্তরে ড্রাগ পরীক্ষার মেশিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রুটি তৈরির কার্যক্রম আধুনিক করতে চীন থেকে আমদানি করা রুটি মেকার স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক বন্দির জন্য একই মানের রুটি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে।

এ ছাড়া বন্দিদের পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল ও বেকারি পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলা, ধর্মীয় শিক্ষা এবং বিভিন্ন জাতীয় ও বিশেষ দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হচ্ছে।

কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পর অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন দেওয়ার বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে। এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।

পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে অসাধারণ অবদান রাখা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদক, প্রশংসাপত্র ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থাও আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কারাগারকে স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করতে সবুজায়ন কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট-১, কিশোরগঞ্জ-১ ও খুলনা নতুন কারাগারে প্রায় ১৮ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের লক্ষ্য, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত জনবল ও মানবিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে একটি নিরাপদ ও সংশোধনমূলক কারা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে বন্দিদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কারা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে