×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা-১০ আসন নিয়ে ইউনূস-জামায়াত আমিরের কথোপকথন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ০৯:৩৭:৩৪
ঢাকা-১০ আসন নিয়ে ইউনূস-জামায়াত আমিরের কথোপকথন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার জন্য ঢাকা-১০ আসন ছেড়ে দিতে জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করেছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের জন্য ঢাকা-১০ আসন ছেড়ে দিতে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যোগাযোগ করেছিলেন। তবে জামায়াতের আমির ওই আসন ছাড়তে রাজি হননি বলেও দাবি করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, আসিফ মাহমুদের জন্য ঢাকা-১০ আসন চাওয়া হলেও জামায়াতের আমির দীর্ঘ দরকষাকষির পরও আসনটি ছাড়েননি।

তার দাবি, এ বিষয়ে নাহিদ ইসলাম কারও কারও কাছে আক্ষেপ করে বলেছেন, জামায়াতের আমির অনেক আলোচনা-দরকষাকষির পরও আসিফ মাহমুদের জন্য আসনটি ছাড়েননি।

রাশেদ খাঁনের বর্ণনা অনুযায়ী, জামায়াতের আমিরের অবস্থান ছিল—আসিফ মাহমুদকে নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ বা বিতর্কের দায় জামায়াত নিতে চায় না। এমনকি ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করলেও ওই আসন ছাড়ার বিষয়ে তিনি সম্মতি দেননি বলে দাবি করেন রাশেদ।তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জামায়াতে ইসলামীর আমির বা নাহিদ ইসলামের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

ঢাকা-১০ আসনটি জামায়াত না ছাড়ায় দলটির প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে জামায়াতের সমালোচনা করলেও আসিফ মাহমুদের জন্য আসনটি না ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াতের আমিরকে তিনি ধন্যবাদ জানান।

সাংবাদিকদের বিষয়টি যাচাই করে দেখতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বানও জানান তিনি।

নিজের পোস্টে রাশেদ খাঁন আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন। তবে তিনি যে অভিযোগগুলো করেছেন, সেগুলোর পক্ষে পোস্টে কোনো নথি বা প্রমাণ প্রকাশ করেননি।

রাশেদ খাঁন দাবি করেন, আসিফ মাহমুদের বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এনসিপির অনেকেরই জানা ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, একজনকে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার বিষয়টি তিনি নিজে জানেন এবং এ বিষয়ে একজন উপদেষ্টাকে জানালে ওই উপদেষ্টা আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা যায়নি।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, আসিফ মাহমুদ ওমরাহ পালন করে এসেছেন। তাঁর মতে, অল্প বয়সে কোনো ভুল হয়ে থাকলে আসিফ মাহমুদের সেটির জন্য দুঃখপ্রকাশ করা উচিত ছিল।

তিনি দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলে যাবেন।

অন্যদিকে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে রাশেদ খাঁনের করা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে আপাতত রাশেদ খাঁনের রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

এদিকে ঢাকা-১০ আসন নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কথিত ফোনালাপের দাবিটিরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে