ঢাকা, শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬

হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া

২০২৬ আগস্ট ২৯ ০৯:৫৫:০৬
হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদে উত্তাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধের ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনূছিয়া মাদ্রাসা থেকে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে মিছিলটি বের হয়। এতে কয়েক শ শিক্ষার্থী অংশ নেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তারা তার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মীরা বলেন, ‘হুজুরদের দোষারোপের সেই পুরোনো সংস্কৃতি আর নয়।’ তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন ঘটনার পর যেভাবে আলেম-ওলামাদের দায়ী করা হতো, কোনোভাবেই যেন সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি না হয়।

তারা আরও বলেন, পুলিশ লাইনে উচ্চ শব্দে গান-বাজনাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে মিথ্যাচার যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি নৌকাবাইচ বন্ধের ঘটনায় সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ যেভাবে তাওহিদি জনতাকে দায়ী করেছেন, সেটিও তারা অন্যায় বলে মনে করেন।

বক্তারা হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কর্মসূচি বয়কট ও প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তারা। এ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলামের কয়েকজন নেতাও।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা গাজী ইয়াকুব ওসমানী তার ফেসবুক আইডিতে এনসিপির কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, ‘আমার ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার ত্বলাবা আজিজদের আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করলাম। হাসনাত নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি বয়কট।’

বিক্ষোভের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এনসিপিকে বয়কট ও কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।

মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ মিসবাহ্ নামে এক ব্যক্তি, যার ফেসবুক প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী তিনি জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও পত্তন ইউপি ছাত্র উলামা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক, একটি পোস্টে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জন্য হাসনাতকে ক্ষমা চাওয়া, সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং দাবি না মানলে এনসিপির শনিবারের কর্মসূচি প্রতিহত করা।

মনিরুজ্জামান আল জামী নামে এক খতিব তার ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করে এনসিপির নেতাদের বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানান। ফখরুল ইসলাম নিজামপুরী নামের আরেক খতিবও হাসনাতের বক্তব্যের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে একটি ভিডিও বার্তাও দেন।

এসব পোস্টে সমর্থন জানিয়ে বিপুলসংখ্যক লাইক ও মন্তব্য দেখা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত জানতে চান, ‘এই ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন?’

তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবাদ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে কওমি শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এদিকে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কর্মসূচির আগে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ এবং এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জেলায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে এনসিপির কোনো নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসনাত আবদুল্লাহরও এ বিষয়ে নতুন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রতিবাদে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, শনিবারের এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে